নিউইয়র্ক সিনেটে ইতিহাস গড়ার পথে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস
আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১৬:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ের উচ্চ রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধির সংখ্যা এখনো খুবই কম। সেই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকার বাসিন্দা আবের কাওয়াস।
আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্কের সিনেট জেলা-১২ আসনের দলীয় বাছাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এ নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিপিনো বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। দলীয় বাছাইয়ে বিজয়ী প্রার্থীই আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নেতা জোহরান মামদানি আবের কাওয়াসকে সমর্থন দিয়েছেন। কাওয়াসের মতে, তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে যে রাজনৈতিক জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেটিই তার প্রচারণার বড় শক্তি।
ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা কাওয়াসের রাজনৈতিক পথচলার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত সংগ্রামের অভিজ্ঞতা। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও অভিবাসন নীতির শিকার হয় তার পরিবার। সে সময় তার বাবাকে আটক করে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়।
শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তাকে অভিবাসী অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে অভিবাসী অধিকার, ভাষাগত সুবিধা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ভূমিকা রেখেছেন।
কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি ও সানিসাইডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে চান হিজাব পরিহিত এই ফিলিস্তিনি নারী। তবে তার প্রার্থিতা ঘিরে ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমের সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।
কাওয়াস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ক্ষমতাবানদের সামনে সত্য কথা বলতে ভয় পায় না।
নির্বাচনী প্রচারণায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন আবের কাওয়াস। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির দুই পরিচিত মুখ বার্নি স্যান্ডার্স ও রাশিদা তলাইবের সমর্থনও পেয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় বাছাইয়ে জয়ী হলে আবের কাওয়াস নিউইয়র্কের রাজ্য রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারেন।
আরও পড়ুন
- • পুকুরে ছিঁড়ে পড়া তারে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুসহ মায়ের
- • এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড, প্রীতি ম্যাচে যুদ্ধের দৃশ্য!
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
- • বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে কড়া সিদ্ধান্ত
- • ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
- • এক বিশ্বকাপেই ১৩ গোল, তবুও ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা জাস্ট ফন্তেইন
- • ইসরায়েলের আগ্রাসন এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি: এরদোয়ান
- • ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
- • সনদ বাড়ছে, তবুও কেন কমছে না ধর্ষণ?
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
