২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০৩:১০

শিরোনাম
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার পদত্যাগের প্রসঙ্গে যা বললেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করেছে সফল বাস্তবায়নের উপর: অর্থমন্ত্রী পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ আগামীকাল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে ভোলার যেসব এলাকায় শনিবার নভোথিয়েটারে সেমিকন্ডাক্টর সামিটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ
শিরোনাম
থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ দেশে ফিরছেন স্পিকার পদত্যাগের প্রসঙ্গে যা বললেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করেছে সফল বাস্তবায়নের উপর: অর্থমন্ত্রী পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ আগামীকাল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে ভোলার যেসব এলাকায় শনিবার নভোথিয়েটারে সেমিকন্ডাক্টর সামিটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হলেন খোন্দকার মিসবাহ

ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই

ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই

নেওয়াজ শরিফ

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০১:০৯

উন্নয়নের নানা অর্জনে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে, তখন ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের ধারাবাহিকতা আমাদের সামাজিক বাস্তবতার এক অস্বস্তিকর চিত্র তুলে ধরে। আরও দুঃখজনক হলো, অপরাধের শিকার ব্যক্তিকে প্রায়ই বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, অবিশ্বাস এবং মানসিক নিপীড়নের ভার বহন করতে হয়।ধর্ষণের শিকার একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে;সহমর্মিতার পরিবর্তে যখন সন্দেহ, কৌতূহল কিংবা প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়, তখন অপরাধের ক্ষত আরও দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হয়ে ওঠে। ফলে মানসিক ক্ষত আরও গভীর হয়ে ওঠে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ হয় আরও কঠিন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজের একটি অংশ এখনো ধর্ষণকে অপরাধীর অপরাধ হিসেবে না দেখে ভুক্তভোগীকে সামাজিক কলঙ্ক হিসেবে বিবেচনা করে। এই সংকীর্ণ মানসিকতা শুধু ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে কঠিন করে না, বরং অনেককে ন্যায়বিচারের আশায় প্রকাশ্যে আসতেও নিরুৎসাহিত করে। ফলে অসংখ্য ঘটনা অভিযোগের পর্যায়ে পৌঁছায় না। 

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘটিত একাধিক ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ড, ২০২০ সালে সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সামনে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ঘটনা দেশব্যাপী ক্ষোভের  জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে।সাম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে।

ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের ওপর নির্মম আঘাত। ধর্ষণের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে পরিচয়ের গোপনীয়তা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক,
নেওয়াজ শরিফ 
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা 

আরও পড়ুন