যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১৫:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অবকাঠামো পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের কারণে ধ্বংস হওয়া সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রকল্পে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি ব্যয় হতে পারে। তিনি বলেন, এত বড় ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে সম্ভাব্য সহায়তার বিনিময়ে অর্থনৈতিক বা জ্বালানি খাতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, এই উদ্যোগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপ পুনর্গঠনের জন্য নেওয়া ঐতিহাসিক ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর সঙ্গে তুলনীয় কি না। জবাবে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের তুলনা করা যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অতীতের মডেলের মতো একতরফা হবে না এবং এতে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য পুনর্গঠন কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রাখতে পারে। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যবসায়িক ও কৌশলগত স্বার্থের প্রাধান্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও পড়ছে।
সংঘাতের জেরে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং পুনর্গঠনে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন, জ্বালানি সম্পদ এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এসব বিষয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত সম্ভাব্য প্রস্তাব বা শর্ত বাস্তবে কোনো সরকারি নীতিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং আন্তর্জাতিক মহলের পরবর্তী অবস্থানের দিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন
- • পুকুরে ছিঁড়ে পড়া তারে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুসহ মায়ের
- • এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড, প্রীতি ম্যাচে যুদ্ধের দৃশ্য!
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
- • বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে কড়া সিদ্ধান্ত
- • ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
- • এক বিশ্বকাপেই ১৩ গোল, তবুও ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা জাস্ট ফন্তেইন
- • ইসরায়েলের আগ্রাসন এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি: এরদোয়ান
- • ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
- • সনদ বাড়ছে, তবুও কেন কমছে না ধর্ষণ?
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
