১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০০:৫৫

শিরোনাম
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানিয়ে পালিত জাতিসংঘ দিবস বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ১৮ হাজার ৩২৮ জন হামের টিকা ক্রয়ে সরকারের বরাদ্দ ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো’-সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের উত্তেজনা তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন সরকারি দফতরের শূন্যপদ পূরণে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী
শিরোনাম
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানিয়ে পালিত জাতিসংঘ দিবস বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ১৮ হাজার ৩২৮ জন হামের টিকা ক্রয়ে সরকারের বরাদ্দ ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো’-সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের উত্তেজনা তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন সরকারি দফতরের শূন্যপদ পূরণে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্যের ‘মানচিত্র বদলানোর স্বপ্ন-বাস্তবতা এখন স্থায়ী সংকটের পথে

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যপ্রাচ্যের ‘মানচিত্র বদলানোর স্বপ্ন-বাস্তবতা এখন স্থায়ী সংকটের পথে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁদের ধারণা ছিল, ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে অঞ্চলটির ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, বাস্তবতা হয়তো তাঁদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত দুর্বল করে ফেলার যে ধারণা শুরুতে তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং অঞ্চলটি এখন দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে প্রবেশ করেছে, যেখানে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বড় হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেহরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে অনেকেই যতটা নড়বড়ে মনে করেছিলেন, বাস্তবে তা নয়। নানা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি তার আঞ্চলিক প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি। বরং নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনো এই প্রশ্ন এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকেরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি কৌশল খুঁজে বের করা, যা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাবে। এ কারণে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক কৌশলগত লক্ষ্য সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ফলে দুই মিত্র দেশের মধ্যে লক্ষ্য ও কৌশলগত পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আবারও একটি পুরোনো বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধ শুরু করা তুলনামূলক সহজ হলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল অর্জন করে তা শেষ করা অনেক বেশি কঠিন। আর সেই বাস্তবতার মুখোমুখিই এখন অঞ্চলটির প্রধান সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো।

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট এই অঞ্চলের নতুন বাস্তবতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জটিল, এবং এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন