ইরান সংকটে চাপে ট্রাম্প, বাড়ছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১১:২৬
ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট সামাল দিতে গিয়ে বহুমুখী চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ, অন্যদিকে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা মতবিরোধ এবং একই সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক অচলাবস্থা সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও চাপে রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থনের হার নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য এবং দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক মার্কিন নাগরিক।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নাগরিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী মাসগুলোতে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা সম্প্রতি প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত কিছু উদ্যোগে সমর্থন না দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁরা ভিন্ন অবস্থানও নিয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি অংশের এই অবস্থান দলীয় ঐক্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও দলটির শীর্ষ নেতারা এখনো এটিকে বড় ধরনের বিদ্রোহ বলতে নারাজ, তবু মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের মতপার্থক্য আরও দৃশ্যমান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যায়েও পরিস্থিতি সহজ নয়। কয়েক মাস ধরে ইরান ইস্যুতে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা চললেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনায় অগ্রগতি সীমিত বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশল নিয়েও ওয়াশিংটনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অগ্রাধিকার সব সময় এক নয়। ফলে কূটনৈতিক সমন্বয় রক্ষা করাও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এসব প্রশ্ন তত বেশি গুরুত্ব পাবে।
আরও পড়ুন
- • পুকুরে ছিঁড়ে পড়া তারে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুসহ মায়ের
- • এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড, প্রীতি ম্যাচে যুদ্ধের দৃশ্য!
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
- • বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে কড়া সিদ্ধান্ত
- • ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চুরি মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
- • এক বিশ্বকাপেই ১৩ গোল, তবুও ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগা জাস্ট ফন্তেইন
- • ইসরায়েলের আগ্রাসন এখন তুরস্কের জন্যও হুমকি: এরদোয়ান
- • ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
- • সনদ বাড়ছে, তবুও কেন কমছে না ধর্ষণ?
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
