১১ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০০:৫৩

শিরোনাম
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানিয়ে পালিত জাতিসংঘ দিবস বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ১৮ হাজার ৩২৮ জন হামের টিকা ক্রয়ে সরকারের বরাদ্দ ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো’-সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের উত্তেজনা তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন সরকারি দফতরের শূন্যপদ পূরণে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী
শিরোনাম
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ আইনমন্ত্রীর শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানিয়ে পালিত জাতিসংঘ দিবস বিশেষ অভিযানে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার ১৮ হাজার ৩২৮ জন হামের টিকা ক্রয়ে সরকারের বরাদ্দ ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো’-সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের উত্তেজনা তিন মাসে ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন সরকারি দফতরের শূন্যপদ পূরণে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের সংক্রমণে প্রথম সারির অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর

শিশুদের সংক্রমণে প্রথম সারির অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০৩

শিশুদের শরীরে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠার প্রবণতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের একটি গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালটির শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (পিআইসিইউ) থেকে সংগৃহীত জীবাণুগুলোর বড় অংশই প্রথম সারির প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাস ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৪৯ জন শিশুর শরীর থেকে জীবাণুর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এতে সহগবেষক হিসেবে ছিলেন ডা. ওয়াহিদা খাতুন, ডা. নাসরিন সুলতানা, ডা. সুলতানা আক্তার, ডা. শামীমা নাসরিন ও ডা. সিরাজুম মুনির। গবেষণাটি সম্প্রতি জার্নাল অব টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় পাওয়া ৪৯টি জীবাণুর মধ্যে ৩০টি ছিল গ্রাম-নেগেটিভ এবং ১৯টি গ্রাম-পজিটিভ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে সংগৃহীত প্রতিটি গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণু ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ফলে চিকিৎসকদের হাতে কার্যকর বিকল্প হিসেবে সীমিতসংখ্যক অ্যান্টিবায়োটিকই অবশিষ্ট রয়েছে।

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি কমপ্লেক্স। মোট নমুনার প্রায় এক-চতুর্থাংশে এই জীবাণু পাওয়া গেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া ও স্ট্যাফাইলোকক্কাস হিমোলিটিকাস। এছাড়া ই. কোলাই, সুডোমোনাস অ্যারুজিনোসা, সেরাশিয়া মারসেসেন্স, স্ফিংগোমোনাস পসিমোবিলিস এবং এলিজাবেথকিংগিয়া মেনিনগোসেপ্টিকাসহ আরও কয়েক ধরনের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণুর ক্ষেত্রে ইমিপেনেম, মেরোপেনেম ও পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাক্টামের প্রতি প্রতিরোধের হার ৯৬ শতাংশের বেশি। সিপ্রোফ্লক্সাসিন, জেন্টামাইসিন ও অ্যামিকাসিনের প্রতিও উচ্চমাত্রার প্রতিরোধ লক্ষ্য করা গেছে। তুলনামূলকভাবে টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন এখনো কার্যকর থাকলেও এসব ওষুধের প্রতিও সীমিত পরিসরে প্রতিরোধ দেখা দিতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুর ক্ষেত্রে লাইনেজলিড, ড্যাপটোমাইসিন ও টাইজেসাইক্লিন এখনো কার্যকর পাওয়া গেছে। তবে টেইকোপ্লানিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী জীবাণু প্রথমবারের মতো এপ্রিল মাসে শনাক্ত হয়েছে, যা গবেষকদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করেছে।

গবেষণায় সময়ের সঙ্গে প্রতিরোধ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট প্রবণতাও উঠে এসেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চে সংগৃহীত জীবাণুর মধ্যে প্রথম সারির ছয়টি অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু এপ্রিলে সংগৃহীত জীবাণুগুলোর ক্ষেত্রে এ হার পৌঁছে যায় ১০০ শতাংশে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৩৪ জন আগে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছিল। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ধরনের শিশুদের মধ্যে বহুঔষধ-প্রতিরোধী (এমডিআর) জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ভেন্টিলেশন ব্যবহার, পিআইসিইউতে দীর্ঘদিন অবস্থান এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্ত থাকাও ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চিকিৎসার ফলাফলেও এর প্রভাব স্পষ্ট। এমডিআর জীবাণুতে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে গড়ে ১৪ দিন সময় লেগেছে, যেখানে অন্যান্য সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে গড়ে ছয় দিন সময় লেগেছে।

তবে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন, গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি একটি মাত্র হাসপাতালের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং নমুনার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া জীবাণুর জিনগত বিশ্লেষণ না হওয়ায় প্রতিরোধ গড়ে ওঠার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

গবেষকদের মতে, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করা, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি চালু করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ও কারণ অনুসন্ধানে বৃহত্তর পরিসরে গবেষণারও প্রয়োজন রয়েছে।

গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিশুদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তাঁর মতে, সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পরিচর্যা ও হাসপাতাল-সংক্রান্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও পড়ুন