আজ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩০
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর সৃষ্টি, চরিত্র ও সাহিত্যকর্ম আজও পাঠক-দর্শকদের সমানভাবে আলোড়িত করে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। পরে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ। শৈশবে তাঁর ডাকনাম ছিল ‘কাজল’।
সাহিত্যচর্চার অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন পরিবার থেকেই। তাঁর বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের এসডিপিও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। লেখালেখির প্রতিও তাঁর বাবার আগ্রহ ছিল। মা আয়েশা ফয়েজও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন যে রকম’ রচনা করেন। তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও লেখক এবং আরেক ভাই আহসান হাবীব সুপরিচিত রম্যলেখক ও কার্টুনিস্ট।
কর্মজীবনে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ূন আহমেদ। পরে সাহিত্য ও চলচ্চিত্র নির্মাণে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে দেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় উপন্যাস উপহার দেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘কবি’, ‘লীলাবতী’, ‘গৌরীপুর জংশন’ এবং ‘এইসব দিনরাত্রি’।
শুধু সাহিত্য নয়, চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি ছিলেন সফল। তাঁর নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এবং ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’। টেলিভিশন নাট্যকার হিসেবেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। আশির দশকে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি কালজয়ী চরিত্র হিমু, মিসির আলী ও শুভ্র আজও বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪) এবং বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮)-সহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নুহাশপল্লীতে বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর জন্মস্থান নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভক্ত, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
প্রতিফলন/রাশ
আরও পড়ুন
- • সহজ ম্যাচ কঠিন করে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ
- • 'জুলাই চেতনা' বিক্রি করে রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- • ‘বারাণসী’তে নতুন লুকে চমক দিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
- • গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে কঠিন দুই সমীকরণ
- • ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা, শিশু আয়নী হত্যার রায় ঘোষণা আজ
- • ফাইনালে ২-১ স্পেনের জয়, দাবি মেন্ডিয়েতার
- • জাতীয় ঐক্যেই শত্রুর পরাজয় সম্ভব: গালিবাফ
- • বিমার টাকার লোভে বিছানায় বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী- গ্রেপ্তার
- • ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখতেই আসছে আর্জেন্টিনার তথ্য!
- • আবারও সমন্বয় হলো স্বর্ণের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য
- • আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • বরিশালে সাংগঠনিক সভায় যে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৯ জেলায় বজ্র ঝড়ের পূর্বাভাস
- • বন্যা-পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত ৭ জেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১
- • হরমুজ প্রণালি নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে উত্তেজনা
- • সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী: বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স
