০৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার, ১৪:১৯

শিরোনাম
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে নতুন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ ৯০ দিনের মজুতের লক্ষ্যে প্রায় ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার রেলের আধুনিকায়নে বড় পরিকল্পনা, বাড়ছে কোচ-লোকোমোটিভ সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের বাংলাদেশের গম আমদানির সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আজ স্মরণসভা, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ জুলাই সনদের প্রতি বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল
শিরোনাম
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে নতুন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ ৯০ দিনের মজুতের লক্ষ্যে প্রায় ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে সরকার রেলের আধুনিকায়নে বড় পরিকল্পনা, বাড়ছে কোচ-লোকোমোটিভ সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের বাংলাদেশের গম আমদানির সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আজ স্মরণসভা, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ জুলাই সনদের প্রতি বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকিতে কেন এগিয়ে বাংলাদেশ

বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকিতে কেন এগিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৪৮

আকাশে কালো মেঘ জমে, দূরে বজ্রধ্বনি শোনা যায়। আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবসের প্রচলিত বার্তা ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’। কিন্তু দেশের হাওর, বিল কিংবা বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে কর্মরত হাজারো কৃষক ও জেলের জন্য এই পরামর্শ বাস্তবে অনেক সময় কার্যকর হয়ে ওঠে না। কারণ, তাঁদের আশপাশে নিরাপদ আশ্রয়ই থাকে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্মুক্ত কৃষিজমিতে কাজের ধরন এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব—এসব কারণে বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক যুগে দেশে বজ্রপাতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবছরই বর্ষা ও কালবৈশাখীর মৌসুমে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যার বড় অংশই কৃষক, জেলে ও খোলা স্থানে কর্মরত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

ভৌগোলিক অবস্থান বড় কারণ

আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। মার্চ থেকে মে মাসে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে উত্তর দিকের অপেক্ষাকৃত শীতল বায়ুর সংঘাতে শক্তিশালী বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। এসব মেঘ থেকেই ঘন ঘন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ার আশঙ্কার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা বাড়লে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির প্রবণতাও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করেন।

ঝুঁকিতে কৃষক ও জেলেরা

বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই কৃষক ও জেলে। হাওর বা বিস্তীর্ণ মাঠে কাজ করার সময় আশপাশে কোনো পাকা স্থাপনা না থাকায় বজ্রপাত শুরু হলে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা প্রান্তরে মানুষই অনেক সময় সবচেয়ে উঁচু বস্তুতে পরিণত হন। ফলে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

প্রাকৃতিক সুরক্ষাও কমছে

পরিবেশবিদদের মতে, গ্রামাঞ্চলে একসময় তাল, নারকেল ও অন্যান্য উঁচু গাছের সংখ্যা বেশি ছিল। সময়ের সঙ্গে এসব গাছ কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটেছে। যদিও গাছ বজ্রপাত থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারে না, তবু পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাঁদের মত।

কী করা যেতে পারে

যোগাযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সচেতনতামূলক প্রচার নয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।

তাঁদের মতে, হাওর ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে আগাম সতর্কবার্তার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নির্দিষ্ট দূরত্বে বজ্রপাত প্রতিরোধব্যবস্থাসহ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং পরিকল্পিতভাবে উঁচু গাছ রোপণ করলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

কী করবেন

বজ্রপাতের সময় কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা—

বজ্রধ্বনি শোনা বা কালো মেঘ দেখা দিলে দ্রুত পাকা ভবন বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
খোলা মাঠে থাকলে বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা মোবাইল টাওয়ারের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
কাস্তে, কোদাল, ছাতা বা অন্য কোনো ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
জলাশয় বা নৌকায় থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে আসুন।
আশ্রয় না পেলে দুই পা একসঙ্গে রেখে হাঁটু মুড়ে মাথা নিচু করে বসে থাকুন। মাটিতে পুরো শরীর শুইয়ে দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে কার্যকর পূর্বাভাস, নিরাপদ আশ্রয় এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে প্রতিবছরের প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন