বাংলাদেশের গম আমদানির সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৪
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের গম আমদানিতে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের গম আমদানির সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। মোট আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২২ লাখ টন গম এসেছে আর্জেন্টিনা থেকে। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের আগে বাংলাদেশের গম আমদানির প্রধান উৎস ছিল এই দুটি দেশ। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আমদানিকারকেরা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই বিকল্প উৎসই এখন সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে।
গত অর্থবছরে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির প্রায় ২৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে এসেছিল মোট আমদানির ৪৪ শতাংশ।
এত দিন আর্জেন্টিনা থেকে মূলত সয়াবিন তেল আমদানি হলেও এখন গমও বড় পরিসরে যুক্ত হয়েছে। আগে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে গম আমদানি করলেও গত অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে গম এনেছে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এগ্রোফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর ওই দুই দেশ থেকে গম আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সরবরাহের ঝুঁকি কমাতেই আমরা আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম।’
গম আমদানির উৎস দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কানাডা। বিদায়ী অর্থবছরে দেশটি থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা মোট আমদানির প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ব্রাজিল থেকে এসেছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় দেশটির অংশীদারত্ব বাড়লেও তা আর্জেন্টিনার তুলনায় অনেক কম। তবে গড়ে সবচেয়ে কম দামে গম সরবরাহ করেছে ব্রাজিল। দেশটি থেকে টনপ্রতি গম আমদানির গড় মূল্য ছিল ২৫৫ মার্কিন ডলার। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে তা ছিল ২৫৭ ডলার।
কয়েক বছর বিরতির পর আবারও বাংলাদেশের গমের বাজারে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে কোনো গম আমদানি হয়নি। তবে বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭ লাখ ৪৪ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ। এর প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে।
আমদানিকারকদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বাংলাদেশের গম আমদানির উৎসে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য এনেছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর নির্ভরতা কমে আর্জেন্টিনা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এতে সরবরাহ ঝুঁকি কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো গম আমদানিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
আরও পড়ুন
- • ‘দানের মতো’ মার্কিন সহায়তা ধাপে ধাপে বন্ধ করতে চান নেতানিয়াহু
- • রেলের আধুনিকায়নে বড় পরিকল্পনা, বাড়ছে কোচ-লোকোমোটিভ
- • আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
- • খামেনির জানাজায় অংশ না নিতে বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপের দাবি
- • ঘানার তান্ত্রিকের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালাল মেসি
- • সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের
- • সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, সন্ধ্যার পর বৃষ্টির আভাস
- • রাজধানীতে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা, ৯ অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কবার্তা
- • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- • ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের
- • বাহরাইনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল ইরান
- • টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট শুরু
- • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের প্রাণহানি
- • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০
- • বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প
- • ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত প্রায় ১,৫০০
- • ভারতের মেডিকেলে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি
- • শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
