জমি বিক্রি করে জার্মানির ৭.৫ কিলোমিটার পতাকা, মাগুরায় আলোচনায় কৃষক আমজাদ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১৬:৫৬
জমিই ছিল তাঁর ভবিষ্যতের সঞ্চয়। সংসারে পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ের দায়িত্ব। তবু একের পর এক বিশ্বকাপ এলে তিনি জমি বিক্রি করেছেন। কোনো পারিবারিক প্রয়োজন বা আর্থিক সংকটে নয়, প্রিয় ফুটবল দল জার্মানির প্রতি ভালোবাসা থেকেই। মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন এবার তৈরি করেছেন ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা।
বুধবার সকালে নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয় পতাকাটি প্রদর্শনের অনুষ্ঠান। বিশাল এই পতাকা দেখতে এবং আমজাদ হোসেনের উদ্যোগে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জার্মানি সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসবের আমেজ।
আমজাদ হোসেন জানান, জার্মানির প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু অনেক বছর আগে। একসময় তিনি একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হন। দেশীয় চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে জার্মানির তৈরি ওষুধ সেবন করেন। পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর মনে বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়। পরে সেই অনুরাগ ফুটবলের মাধ্যমে আরও গভীর হয়।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে দীর্ঘ পতাকা তৈরির কাজ শুরু করেন ২০০৬ সালে। সে সময় তিনি প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করেন। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। ২০১৪ সালে ৩০ শতক জমি বিক্রি করে তৈরি করেন সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা। ওই সময় তাঁর উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে জার্মানির কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে উৎসাহ দেন।
এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে আরও ১০ শতক জমি বিক্রি করে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার করেন। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। নতুন করে আরও দুই কিলোমিটার বাড়িয়ে পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড় করিয়েছেন সাড়ে সাত কিলোমিটারে।
আমজাদ হোসেন বলেন, “জার্মানি দলকে ভালোবাসি বলেই এই পতাকা তৈরি করেছি। যত দিন বেঁচে থাকব, বিশ্বকাপ এলে পতাকার দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানের দিন সকালে তাঁর বাড়ি থেকে ট্রাকে করে পতাকার অংশগুলো মাঠে নেওয়া হয়। এ সময় সমর্থকেরা শোভাযাত্রা বের করেন। পরে মাঠে পতাকাটি মেলে ধরা হলে সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বকাপের সময় আমজাদ ভাই গ্রামের মানুষকে একসঙ্গে খেলা দেখার সুযোগ করে দেন। তাঁর কারণে মাগুরার নামও অনেকের কাছে পরিচিত হয়েছে।”
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে সাধারণত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বেশি চোখে পড়ে। তবে আমজাদ হোসেনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে, অন্য দলগুলোর প্রতিও সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসা কম নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রিয় দলের প্রতি আমজাদের দীর্ঘদিনের এই ভালোবাসার প্রতিদান একদিন বড় কোনো সাফল্যের মাধ্যমে পাবে জার্মানি।
আরও পড়ুন
- • মার্কিন ঘাটিতে নতুন প্রযুক্তির ড্রোন হামলা, ইরানের আক্রমণে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র
- • নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলল মাধুরীর ‘মা বেহেন’, বিশ্ব তালিকায় দুই নম্বরে
- • সীমান্তে বাংলাদেশিদের ধাওয়ায় পালিয়ে বাঁচলো বিএসএফ ও ভারতীয়রা
- • বিশ্বকাপ গানে নোরা ফাতেহি, ৪৫ সেকেন্ডের টিজারেই বাজিমাৎ
- • পুকুরে ছিঁড়ে পড়া তারে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুসহ মায়ের
- • এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড, প্রীতি ম্যাচে যুদ্ধের দৃশ্য!
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
- • বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে কড়া সিদ্ধান্ত
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
- • সনদ বাড়ছে, তবুও কেন কমছে না ধর্ষণ?
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
