পুরুষ ছাড়াই এক লাখ বছর ধরে স্ত্রী মাছের বংশবিস্তার, বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করছে অ্যামাজন মলি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ১৪:২৯
যৌন প্রজনন ছাড়া কোনো প্রাণী দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না জীববিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণা এমনই। কিন্তু সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রায় এক লাখ বছর ধরে বংশবিস্তার করে চলেছে এক বিস্ময়কর মাছ। নাম অ্যামাজন মলি। আরও অবাক করার বিষয় হলো, এই প্রজাতির সব সদস্যই স্ত্রী মাছ; এদের কোনো পুরুষ সদস্য নেই।
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ টেক্সাস অঞ্চলের বিভিন্ন জলাধারে পাওয়া যায় অ্যামাজন মলি। অধিকাংশ প্রাণী জিনগত বৈচিত্র্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে যৌন প্রজননের ওপর নির্ভরশীল হলেও এই মাছ বংশবিস্তার করে গাইনোজেনেসিস নামে পরিচিত একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায়।
এ প্রক্রিয়ায় স্ত্রী মাছ অন্য প্রজাতির পুরুষ মাছের শুক্রাণু ব্যবহার করে ডিম্বাণুর বিকাশ ঘটায়। তবে শুক্রাণুর জিনগত উপাদান সন্তানের শরীরে প্রবেশ করে না। ফলে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মাছ মায়ের প্রায় হুবহু জিনগত অনুলিপি বা ক্লোন।
বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, এ ধরনের অযৌন প্রজননকারী প্রজাতি শেষ পর্যন্ত বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এর পেছনে রয়েছে ‘মুলার’স র্যাচেট’ নামে পরিচিত একটি তত্ত্ব। তত্ত্বটি অনুযায়ী, যৌন প্রজননের মাধ্যমে জিনের পুনর্বিন্যাস না ঘটলে ক্ষতিকর মিউটেশন ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে এবং একসময় প্রজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।
কিন্তু অ্যামাজন মলি সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাছটি জিন কনভার্সন নামে পরিচিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিনগত ত্রুটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।
এই প্রক্রিয়ায় একটি সুস্থ জিনের অনুলিপিকে নমুনা হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত অনুলিপিকে মেরামত করা হয়। গবেষকদের মতে, অ্যামাজন মলির জিনোমের যেসব অংশে মিউটেশনের ঝুঁকি বেশি, সেসব স্থানেই এই প্রক্রিয়া সবচেয়ে সক্রিয়। ফলে দীর্ঘদিন ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে বংশবিস্তার করেও প্রজাতিটি জিনগতভাবে সুস্থ থাকতে পেরেছে।
প্রজাতিটির উৎপত্তিও এর সাফল্যের একটি কারণ বলে মনে করেন গবেষকেরা। অ্যামাজন মলির জন্ম হয়েছে দুটি ভিন্ন প্রজাতি আটলান্টিক মলি ও সেইলফিন মলির সংকরায়ণের মাধ্যমে। ফলে শুরু থেকেই এটি তুলনামূলক বেশি জিনগত বৈচিত্র্য লাভ করেছে, যা জিন কনভার্সন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করেছে।
অ্যামাজন মলি একা নয়। বিডেলয়েড রোটিফার নামের আরেকটি অযৌন প্রজননকারী জীবও কোটি কোটি বছর ধরে বিকল্প জিনগত কৌশল ব্যবহার করে টিকে আছে। এসব প্রাণী নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে জিনোমকে সুস্থ রাখার জন্য যৌন প্রজনন কি সত্যিই একমাত্র পথ?
গবেষকদের মতে, অ্যামাজন মলির মতো প্রাণীর জিনগত কৌশল আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসারসহ মিউটেশনজনিত নানা রোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন
- • মার্কিন ঘাটিতে নতুন প্রযুক্তির ড্রোন হামলা, ইরানের আক্রমণে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র
- • নেটফ্লিক্সে ঝড় তুলল মাধুরীর ‘মা বেহেন’, বিশ্ব তালিকায় দুই নম্বরে
- • সীমান্তে বাংলাদেশিদের ধাওয়ায় পালিয়ে বাঁচলো বিএসএফ ও ভারতীয়রা
- • বিশ্বকাপ গানে নোরা ফাতেহি, ৪৫ সেকেন্ডের টিজারেই বাজিমাৎ
- • পুকুরে ছিঁড়ে পড়া তারে প্রাণ গেল দুই বছরের শিশুসহ মায়ের
- • এক ম্যাচে ৮ লাল কার্ড, প্রীতি ম্যাচে যুদ্ধের দৃশ্য!
- • ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর, কর ও ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
- • বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ ঘিরে মেক্সিকো সিটিতে কড়া সিদ্ধান্ত
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
- • সনদ বাড়ছে, তবুও কেন কমছে না ধর্ষণ?
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
