১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০২:৪৭

শিরোনাম
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক, জোরালো রাজনৈতিক জল্পনা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ১৭১ জুলাই আন্দোলনের ৫৯ মামলায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হবে: ডিবি জনগণের সেবক হয়ে আস্থা অর্জনের আহ্বান আইজিপির ৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি পুরো মধ্যপ্রাচ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের নরসিংদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ৩ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ফাইনাল নিশ্চিতের পর পিকফোর্ডের বোতল ঘিরে মেসিদের কৌতূহল ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে সরকার’ :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
শিরোনাম
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন কোয়েল মল্লিক, জোরালো রাজনৈতিক জল্পনা ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ১৭১ জুলাই আন্দোলনের ৫৯ মামলায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দেওয়া হবে: ডিবি জনগণের সেবক হয়ে আস্থা অর্জনের আহ্বান আইজিপির ৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি পুরো মধ্যপ্রাচ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের নরসিংদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ৩ মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ফাইনাল নিশ্চিতের পর পিকফোর্ডের বোতল ঘিরে মেসিদের কৌতূহল ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে সরকার’ :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তালাকের অজুহাতে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট

তালাকের অজুহাতে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১৪:১৬

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার তালাক সংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।

সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে এক দম্পতির বিয়ে হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে মামলা করা হয়। স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে আইন অনুযায়ী সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।

পরে স্বামী তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি করে নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করেন এবং সেই মামলার অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে ওঠে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধু নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে—এ কারণে আগে দেওয়া চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট সেটি বাস্তবায়নে বাধ্য।

আদালত আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এ ধরনের তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং দেনমোহর বা ভরণপোষণের ডিক্রি বাস্তবায়নে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।

নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এটি শিশুর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। মা-বাবার তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং কোনো পিতা তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

হাইকোর্ট আরও বলেন, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। ডিক্রির বাইরে গিয়ে তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না—এসব প্রশ্নে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ওই আদালতের নেই।

রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান চান, তবে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তিনি মুক্তি পাবেন না।

হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া অর্থসহ স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

রায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে—আইন অনুযায়ী তালাক প্রমাণিত হতে হবে, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন অধিকার এবং নতুন মামলা করে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বিলম্বিত করা যাবে না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং পারিবারিক আদালতের রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন