ইউনেস্কোর পুরস্কার পেল বাংলাদেশের ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৩১
জলাবদ্ধ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কোর কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ পেয়েছে বাংলাদেশের সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয়ের মাধ্যমে চলনবিল অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
ইউনেস্কো ঢাকা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভাবনী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব উদ্যোগ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে।
এ বছর সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি (নালা) এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার পেয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা তরুণদের জন্য কার্যকর ও উদ্ভাবনী সাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, জীবনের সুযোগ কাজে লাগানো এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
চলনবিল অঞ্চলে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিশুর জন্য বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতায় নৌকাভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
স্থানীয় কারিগরি জ্ঞান ব্যবহার করে তৈরি এসব নৌকায় রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা। বর্তমানে সংস্থাটি ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি নৌকাগুলো স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা ও পরিবহন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।
সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান গড়ে ওঠে। এই স্বীকৃতি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আরও মানুষের কাছে পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা।
আরও পড়ুন
- • ইরানের তেলবাহী জাহাজে আবারও মার্কিন হামলা
- • বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ে স্পিকারের অভিনন্দন
- • আবারো দেশে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত
- • সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস যেসব জেলায়
- • দলকে জিতিয়ে হাসপাতালে অধিনায়ক মিরাজ
- • ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে টাইগারদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
- • খুলনা সিটি মেডিকেলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
- • রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
- • পাবনায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও ৩ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
