১২ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০০:১৭

শিরোনাম
আবারো দেশে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ শিক্ষায়, সবচেয়ে কম ত্রাণে সরকারি চাকরিজীবিদের নতুন বেতন কাঠামো, বাড়তি ৪৬৪১ কোটি বরাদ্দ বাজেটে চমক, আসছে ৮ বড় জনকল্যাণ উদ্যোগ বাজেটে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুর ঘোষণা রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে চূড়ান্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, গঠিত হবে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে করছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্য ও চিকিৎসা খরচ
শিরোনাম
আবারো দেশে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ শিক্ষায়, সবচেয়ে কম ত্রাণে সরকারি চাকরিজীবিদের নতুন বেতন কাঠামো, বাড়তি ৪৬৪১ কোটি বরাদ্দ বাজেটে চমক, আসছে ৮ বড় জনকল্যাণ উদ্যোগ বাজেটে দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুর ঘোষণা রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে চূড়ান্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, গঠিত হবে জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে করছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্য ও চিকিৎসা খরচ

জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে করছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্য ও চিকিৎসা খরচ

জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে করছাড়, কমতে পারে নিত্যপণ্য ও চিকিৎসা খরচ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ১৭:০১

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষি উপকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক করছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, শিশুখাদ্য ও কিছু ভোক্তা পণ্যের দাম কমতে পারে বলে মনে করছে সরকার।

বাজেটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিবছর বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় করহার বৃদ্ধির প্রবণতা থাকলেও এবার তুলনামূলক ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জিংক সালফেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেটসহ পাঁচ ধরনের সারের ব্যবসায়িক পর্যায়ের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কীটনাশক ও বালাইনাশকের শুল্ক-কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎসে করের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের সরবরাহ ব্যয় কমে বাজারমূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বেশ কিছু করছাড় দেওয়া হচ্ছে। ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, হার্টের রিং (স্টেন্ট), কিডনি ডায়ালাইসিসের বিভিন্ন উপকরণ এবং ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়েকটি উপাদান আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে হার্টের রিং ও চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স সরবরাহে জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রয়েছে। এতে স্টেন্ট ও লেন্সের দাম কমতে পারে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ব্লাড টিউব সেট আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হলে চিকিৎসা ব্যয়ও কিছুটা কমতে পারে।

শিশুখাদ্য উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মসলার ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটিও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এলাচ, দারুচিনিসহ বিভিন্ন মসলার দাম কমতে পারে।

টেলিযোগাযোগ খাতে সিম ও ই-সিমের ওপর বর্তমান নির্দিষ্ট কর পদ্ধতি পরিবর্তন করে মূল্যভিত্তিক ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সিমকার্ডের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি উপকরণের অগ্রিম আয়কর কমানো হচ্ছে, যা দেশীয় মোবাইল ফোনের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

গৃহস্থালি ও প্রযুক্তিপণ্যের মধ্যেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশীয় ফ্রিজ উৎপাদনে ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর ও মেমোরি কার্ড আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম কর হ্রাসের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য কমতে পারে।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির শুল্কহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এসব গাড়ির দাম কমতে পারে। তবে তেলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে করহার বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া কফি, কিছু প্রসাধনী, ইলেকট্রিক চার্জার, ইলেকট্রিক ও ইন্ডাকশন কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, গিজার, পিয়ানো ও ফ্লোট গ্লাসসহ আরও বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দামও কিছুটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন