পরকীয়ার ঝুঁকি কমাতে স্ত্রীর ১০ করণীয়
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ১৪:৩৩
বৈবাহিক জীবন পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরকীয়া অনেক পরিবারে অস্থিরতা ও ভাঙনের কারণ হয়ে উঠছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সন্তান, পরিবার ও সমাজেও এর প্রভাব পড়ে। ইসলাম পরকীয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ ধরনের সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরকীয়া থেকে দূরে থাকার দায়িত্ব নারী-পুরুষ উভয়ের। তবে একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল স্ত্রী সংসারে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করে স্বামীকে পরিবারের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট রাখতে পারেন।
আল্লাহভীতি ও ধর্মীয় পরিবেশ
ইসলামী শিক্ষায় আল্লাহভীতিকে নৈতিকতা রক্ষার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং ধর্মীয় চর্চা পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে, যা মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে।
স্বামীর অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি যত্ন
দাম্পত্য জীবনে একে অপরের চাহিদা, অনুভূতি ও প্রয়োজনের প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্পর্ককে দৃঢ় করে। পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।
ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে শুধু ভালোবাসা অনুভব করাই যথেষ্ট নয়; তা প্রকাশও গুরুত্বপূর্ণ। স্বামীর প্রতি সম্মান দেখানো, তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করা এবং উৎসাহ দেওয়া পারিবারিক বন্ধনকে আরও গভীর করে।
পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত যত্ন
পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নিজের পরিপাটি ও সুন্দর উপস্থাপন দাম্পত্য সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং পারস্পরিক আকর্ষণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঝগড়া ও কটূক্তি পরিহার
ঘন ঘন বিরোধ, অপমান বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। মতপার্থক্য থাকলেও তা ধৈর্য, সংযম ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
ভালো সঙ্গ নিশ্চিত করা
বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক পরিবেশ মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলে। তাই সৎ ও নৈতিক মানুষের সান্নিধ্য একজন ব্যক্তিকে সঠিক পথে থাকতে সহায়তা করতে পারে।
সন্দেহ নয়, বিশ্বাস
অমূলক সন্দেহ অনেক সময় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। দাম্পত্য জীবনে স্বচ্ছতা, খোলামেলা যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বিশ্বাস সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
সংসারে শান্তির পরিবেশ
কর্মব্যস্ত দিনের শেষে মানুষ ঘরে প্রশান্তি খোঁজে। পারিবারিক পরিবেশ যদি স্বস্তিদায়ক ও ইতিবাচক হয়, তবে পরিবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়ে।
একসঙ্গে ইবাদত
স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে নামাজ আদায়, কোরআন পাঠ বা ধর্মীয় আলোচনা তাদের আত্মিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে পারে এবং পারিবারিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দোয়ার গুরুত্ব
ইসলামী দৃষ্টিতে দোয়া মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবারের কল্যাণ, ঈমানের দৃঢ়তা এবং নৈতিক জীবনযাপনের জন্য দোয়া করা দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরকীয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, আত্মসংযম এবং পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী রাখা। তবে এ দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর নয়; স্বামীরও নিজের চরিত্র, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি সংযত রাখা সমানভাবে জরুরি। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যখন একে অপরের অধিকার রক্ষা করেন এবং পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেন, তখন একটি সুখী ও স্থিতিশীল পরিবার গড়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
- • ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে জয়ের লক্ষ্যে কানাডা, মুখোমুখি বসনিয়া
- • আদ্-দ্বীনের রোগীদের ৬ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ
- • আজ কানাডায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
- • রোববার জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর
- • কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
- • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে একই স্কোয়াডে খেলবে বাংলাদেশ
- • আগস্টের শেষে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
- • রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • পাবনায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও ৩ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
- • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য আশির্বাদ
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
