০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৬:৪৯

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার: মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক প্রাচীন সভ্যতা

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার: মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক প্রাচীন সভ্যতা

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:২৪

বাংলাদেশের উত্তর জনপদে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার, যা সাধারণত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত, এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ স্থাপত্যের এক অনন্য বিস্ময়। নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এটি কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং এটি প্রাচীন বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে অথবা নবম শতাব্দীর শুরুতে পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব এই বিশাল মহাবিহারটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, এটি তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। তিব্বতী সূত্র অনুসারে, বিখ্যাত পন্ডিত অতিশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দীর্ঘকাল এই বিহারে অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে এটি ভারতবর্ষ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে।

স্থাপত্যের বিস্ময়: পাহাড়ের মতো উচ্চতা

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মূল আকর্ষণ হলো এর বিশাল কেন্দ্রীয় মন্দির। দূর থেকে দেখলে এটিকে একটি ছোট পাহাড়ের মতো মনে হতো বলে স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছিল ‘পাহাড়পুর’।

 * আকৃতি ও পরিকল্পনা: বিশাল এই বিহারটি চতুর্ভুজাকৃতির। এর চারদিকের সীমানা প্রাচীর জুড়ে মোট ১৭৭টি কক্ষ রয়েছে, যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বাস করতেন এবং জ্ঞানচর্চা করতেন।

 * পোড়ামাটির ফলক (Terracotta): মন্দিরের গায়ে সারি সারি পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা চিত্র রয়েছে। এগুলোতে তৎকালীন মানুষের জীবনধারা, পশুপাখি, দেবদেবী এবং লোকজ কাহিনী অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ২,০০০-এর বেশি টেরাকোটা এখানে পাওয়া গেছে।

 * কেন্দ্রীয় মন্দির: এর স্থাপত্যরীতিটি ছিল ‘ক্রুশাকার’ বা চতুর্মুখী। এই অনন্য শৈলীটি পরবর্তীতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বিশেষ করে বার্মা (মিয়ানমার) ও ইন্দোনেশিয়ার জাভার মন্দির স্থাপত্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ও জাদুঘর

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এখানে খননকাজ চালিয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রোঞ্জ মূর্তিসমূহ, খোদাই করা পাথর, মুদ্রা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র। বিহার চত্বরেই একটি চমৎকার জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এই অমূল্য সম্পদগুলো দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আছে।

পর্যটন ও বৈশ্বিক গুরুত্ব

পাহাড়পুর বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্র। এটি প্রাচীন বাংলার পাল স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠতম নিদর্শন। ইতিহাসের গবেষক থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটক—সবার কাছেই পাহাড়পুর এক রহস্যময় ও আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি অসংখ্য মানুষ এই ধ্বংসাবশেষের আভিজাত্য প্রত্যক্ষ করতে ভিড় করেন।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার বাংলার হাজার বছরের পুরনো সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। পাল রাজাদের স্থাপত্যশৈলী এবং সেই সময়ের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য আজও এই ইটের স্তূপগুলোর ভাঁজে ভাঁজে জীবন্ত হয়ে আছে। এটি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলার এক বিশাল সোনালী অতীতের কথা।
 

আরও পড়ুন