স্পা সেন্টারে ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও অপরাধচক্রের ফাঁদ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:৩৯
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে স্পা ও ম্যাসাজ সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বাইরে থেকে এগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা বা সৌন্দর্যচর্চার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হলেও একাংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কার্যকলাপ, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকার গুলশান, বনানী, উত্তরা ও মিরপুরসহ অভিজাত এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু স্পা সেন্টারে ম্যাসাজ সেবার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, এসব সেন্টারে যাওয়া কিছু ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি পরে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন। নারী কর্মীদের মাধ্যমে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে পরে তা দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ফ্ল্যাটে গোপনে পরিচালনা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ স্পা সেন্টার আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হয়। বাইরে থেকে কার্যক্রম বোঝা কঠিন। ভেতরে একাধিক কক্ষ, সিসিটিভি ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ব্যবস্থা থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অনেক প্রতিষ্ঠানই সেলুন, বিউটি পার্লার বা ফিজিওথেরাপি সেন্টারের নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।
গ্রাহক সংগ্রহ ও অনলাইন প্রচারণা
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক টানা হচ্ছে। এ কাজে দালাল চক্রও সক্রিয় রয়েছে।
অভিযান ও নজরদারি
পুলিশ জানিয়েছে, স্পা সেন্টারে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ৪ জুন গুলশান এলাকায় একটি সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সাজা দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান থানার ওসি দাউন হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিই। এসব অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও জানিয়েছে, অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিছু স্পা সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এগুলো সামাজিক মূল্যবোধ ও তরুণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, শুধু অভিযান নয়, কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সমাধানের আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত তদারকি, লাইসেন্স নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ ধরনের অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
আরও পড়ুন
- • কারিশমাই আমার প্রথম মা, আবেগঘন কারিনা
- • ইভটিজিং সামাজিক অভিশাপের এক নীরব বিস্তার
- • শত দিন পরবর্তী বিএনপি সরকার: প্রতিশ্রুতির পথ নাকি প্রশ্নের পাহাড়?
- • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শত দিন: আগুনের বৃত্তে দাঁড়িয়ে বিশ্বের ভবিষ্যৎ
- • বাজেটেই মিলবে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা: মির্জা ফখরুল
- • তৃণমূলে ভাঙনের দাবি, বিজেপির পাশে ২০ এমপি!
- • হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলি হামলা, আইনি পথে মেটা
- • রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যু
- • বাংলাদেশ–তুরস্ক সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো সমঝোতা স্মারক
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • বাকস্বাধীনতা কোথায়?
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
- • মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ
- • নৈতিকতার চরম অবনতি দায় আসলে কার?
