০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ২৩:৫৪

শিরোনাম
হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অর্থবছরে রেমিটেন্সে বিরাট পরিবর্তন, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ‘নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়’:স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে’: তথ্যমন্ত্রী নতুন ৩টি উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দেশের সব জেলায় রেল সংযোগের পরিকল্পনা,  বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’
শিরোনাম
হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অর্থবছরে রেমিটেন্সে বিরাট পরিবর্তন, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ‘নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়’:স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে’: তথ্যমন্ত্রী নতুন ৩টি উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দেশের সব জেলায় রেল সংযোগের পরিকল্পনা,  বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের আরেক পরাজয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পের আরেক পরাজয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৩২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ‘ট্রাম্প বনাম বারবারা’ মামলায় ৬-৩ ভোটের রায়ে আদালত জানিয়েছে, আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই রায়ের মাধ্যমে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহাল থাকা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা পুনর্ব্যক্ত করল দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই আগের মতো জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সঙ্গে একমত হন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান, অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন। বিচারপতি ব্রেট কাভানাও পৃথক মতামতে বলেন, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ শুধু সংবিধান নয়, ফেডারেল আইনও লঙ্ঘন করেছে।

অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের বিরোধিতা করেন।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, “নাগরিকত্ব হলো অধিকার পাওয়ার অধিকার। এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের ভিত্তি। ১৪তম সংশোধনীর প্রণেতারা এই অধিকার যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তির জন্য নিশ্চিত করেছিলেন এবং আদালত আজও সেই প্রতিশ্রুতি বহাল রাখছে।”

ভিন্নমত পোষণ করে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস বলেন, আদালতের ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, ১৪তম সংশোধনী মূলত মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও পরবর্তীতে এর ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিচারপতি নিল গরসাচও এ মতের সঙ্গে একমত হন।

এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরেকটি, যা আদালতে টিকতে পারেনি। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে প্রথম দিনই অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে তিনি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

তবে আদেশটি কার্যকর হওয়ার আগেই ফেডারেল আদালতগুলো তা স্থগিত করে দেয়। ফলে এটি কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বপ্রাপ্ত এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ১৮৯৮ সালের এক ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এই নীতিকে বহাল রাখে। পরবর্তীতে জাতীয়তা আইন ও অভিবাসন আইনের মাধ্যমে এই সাংবিধানিক বিধান ফেডারেল আইনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের সুযোগ অবৈধ অভিবাসন এবং তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’কে উৎসাহিত করছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ে সেই অবস্থান প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

আরও পড়ুন