০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৬:৪৯

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

সুন্দরবনে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জীবিকার সংকটে বননির্ভর মানুষ

সুন্দরবনে ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জীবিকার সংকটে বননির্ভর মানুষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬, ২০:১৬

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৯০ দিনের জন্য বনাঞ্চলে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ। এ সময় মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, বনসম্পদ সংগ্রহ এবং পর্যটন কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।

এ সিদ্ধান্তে খুলনা অঞ্চলের সুন্দরবননির্ভর প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল, ট্রলারচালক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট পরিবার জীবিকাগত সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছরের মতো এবারও অনেক পরিবার খাদ্যসংকট ও ঋণের চাপে পড়বে।

কয়রা উপজেলার মাঠবাড়ী গ্রামের বনজীবী লিটন হোসেন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার এই তিন মাস আমাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, যা সারা বছরই চাপ সৃষ্টি করে। সরকারি সহায়তা না পেলে এবারও কষ্টে পড়তে হবে।’

পর্যটন ও নৌযান খাতেও এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়রা কাটকাটা বোট মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল কবির রিপন বলেন, ‘সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকলে ট্রলারচালক, সহকারী ও গাইডদের কোনো কাজ থাকে না। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও খুব সীমিত। তাই এই সময়ে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।’

স্থানীয় সংগঠনগুলোর নেতারাও বননির্ভর মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সরকারি সহায়তা পেলেও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা প্রায়ই সেই সুবিধার বাইরে থেকে যান। তাঁদের জন্যও বিশেষ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত।

কয়রা উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা কার্যকর হয় না।’

তবে বন বিভাগ বলছে, জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থেই এ নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে মানবসৃষ্ট চাপ কমাতে প্রতিবছরের মতো এবারও বনাঞ্চলে প্রবেশ ও সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বন ও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে বননির্ভর মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বনজীবীদের জন্য ভিজিএফসহ খাদ্য সহায়তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বনজীবীদের জন্য বিশেষ খাদ্য বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হবে।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে বননির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সহায়তা কর্মসূচি চালু না হলে উপকূলীয় অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

আরও পড়ুন