প্রকৃতির ক্ষুদে বিস্ময়: হামিংবার্ড
প্রতিফলন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০১
প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জগতে হামিংবার্ড এক অনন্য নাম। এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম পাখি হওয়ার পাশাপাশি পাখিদের জগতে সবচেয়ে চটপটে এবং দক্ষ আকাশচারী হিসেবে পরিচিত। মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় এই পাখির দেখা মেলে। এদের ডানার অবিরাম কম্পন থেকে যে গুঞ্জন বা 'হামিং' শব্দ হয়, তা থেকেই এদের নাম হয়েছে হামিংবার্ড।
বিস্ময়কর শারীরিক গঠন ও ক্ষমতা
হামিংবার্ডের আকার প্রজাতিভেদে মাত্র ২ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে 'বি হামিংবার্ড' পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট পাখি, যার ওজন একটি মুদ্রার চেয়েও কম। এদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এদের ওড়ার ধরন। এরা বাতাসের ওপর স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে এবং পাখিদের মধ্যে কেবল এরাই পেছনের দিকে উড়তে সক্ষম। এদের ডানা প্রতি সেকেন্ডে ৫০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত ঝাপটায়, যা সাধারণ মানুষের চোখে ধরা পড়া প্রায় অসম্ভব।
খাদ্য ও বিপাক প্রক্রিয়া
হামিংবার্ডের প্রধান খাবার হলো ফুলের মধু বা নেক্টার। এই মধু সংগ্রহের জন্য এদের আছে লম্বা এবং নমনীয় ঠোঁট। তবে শুধু মধুই নয়, প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এরা ছোট ছোট পোকাও খেয়ে থাকে। এদের মেটাবলিজম বা বিপাক হার প্রাণিজগতে অন্যতম সর্বোচ্চ। শরীরকে সচল রাখতে এদের প্রতিদিন নিজের ওজনের প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ খাবার গ্রহণ করতে হয়। মজার বিষয় হলো, খাবারের অভাব হলে বা রাতে শক্তি সঞ্চয় করতে এরা 'টোরপোর' (Torpor) নামক এক গভীর ঘুমের অবস্থায় চলে যায়, যা অনেকটা শীতনিদ্রার মতো।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা
পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রে হামিংবার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরা মূলত পরাগায়নকারী (Pollinator) হিসেবে কাজ করে। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে মধু খাওয়ার সময় এদের ঠোঁট ও মাথায় পরাগরেণু লেগে যায়, যা উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে। অনেক বিশেষ ধরনের ক্রান্তীয় উদ্ভিদ কেবল এই হামিংবার্ডের মাধ্যমেই পরাগায়ন সম্পন্ন করে। তাই এই পাখিগুলো না থাকলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
অস্তিত্বের সংকট ও সংরক্ষণ
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বনভূমি ধ্বংসের কারণে হামিংবার্ডের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। বাগান ও কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এদের খাদ্যের উৎস কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং এই অপরূপ সুন্দর পাখিকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বাড়ির আশেপাশে ফুলের বাগান করা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করার মাধ্যমেই আমরা এই ক্ষুদে পাখিদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে পারি।
আরও পড়ুন
- • নির্মাণসামগ্রীর দাম ও ব্যয় বৃদ্ধিতে চাপে আবাসন খাত, কমেছে নির্মাণকাজের গতি
- • ইতিহাস গড়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল
- • নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে গ্রেফতারের আইনি পথ খুঁজছেন মেয়র জোহরান মামদানি
- • প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান
- • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করল ওয়াশিংটন
- • আজ কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী
- • শাপলা চত্বর হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, আসামি শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন
- • ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন, ইতিহাস কার পক্ষে?
- • ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখতেই আসছে আর্জেন্টিনার তথ্য!
- • ধানমন্ডি ও গুলশান লেক সংস্কার সংক্রান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ
- • আবারও সমন্বয় হলো স্বর্ণের দাম, কার্যকর নতুন মূল্য
- • আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • বরিশালে সাংগঠনিক সভায় যে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বন্যা-পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত ৭ জেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১
- • হরমুজ প্রণালি নিয়ে মুখোমুখি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে উত্তেজনা
- • আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১৯ জেলায় বজ্র ঝড়ের পূর্বাভাস
