১৯ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ১২:৪৬

শিরোনাম
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সিলেটে খনন হচ্ছে নতুন ৩ কূপ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২০২৬’ শুরু আজ রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যান দ্রুত অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ জুলাই: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তীব্র হয় আন্দোলন
শিরোনাম
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তুরস্ক সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সিলেটে খনন হচ্ছে নতুন ৩ কূপ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২০২৬’ শুরু আজ রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যান দ্রুত অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ জুলাই: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তীব্র হয় আন্দোলন

সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত নেয়ামত- প্রকৃতি ও পরিবেশ

সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত নেয়ামত- প্রকৃতি ও পরিবেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৪৭

মানুষকে ঘিরেই পরিবেশ ও প্রকৃতি। পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে রয়েছে ইসলামের তাকিদ। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংস নিজেরা ডেকে এনো না।’ সুরা বাকারা : ১৯৫
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন সমুদ্র ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ সুরা আর রুম : ৪১
প্রকৃতি মানুষ ছাড়া বাঁচতে পারে। কিন্তু মানুষ প্রকৃতিহীন বেঁচে থাকা মানুষের জন্য অসাধ্য। প্রকৃতি মানুষ থেকে কিছুই না নিয়ে বাঁচতে পারে। কিন্তু প্রকৃতির সাহায্য ছাড়া জীবনযাপন, মানুষের জন্য অসম্ভব। মানুষের উপকারার্থেই মহান আল্লাহ প্রকৃতি সৃজন করেছেন। পবিত্র কোরআন-হাদিসে এ মর্মে নানা বক্তব্য ও প্রচুর দিকনির্দেশনা এসেছে।
প্রকৃতির প্রাণকেন্দ্র হলো পৃথিবী। পৃথিবীর মূল সম্পদ হলো ভূমি, পানি ও পরিবেশগত নানা বৈচিত্র্য। আর পরিবেশ বৈচিত্র্যের অন্যতম কারিগর উদ্ভিদ। পৃথিবীর মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ভেতরকার ২৫ ভাগই বৃক্ষ। বৃক্ষ আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। বৃক্ষ ছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশ কল্পনা করা অবান্তর। তাই ইসলাম প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা তৈরিতে কালজয়ী দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
পৃথিবীতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় আল্লাহতায়ালা বৃক্ষ সৃষ্টি করেছেন। কোরআন মাজিদে তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি ও তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং নয়নাভিরাম বিবিধ উদ্ভিদরাজি উৎপন্ন করেছি। এটি আল্লাহর অনুরাগী বান্দাদের জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ।’ সুরা কাফ : ৭-৮
আল্লাহতায়ালা প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক বাসোপযোগী করে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। তাই তো আমরা দেখি প্রচণ্ড শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতে যেখানে বছরের প্রায় পুরোটাজুড়ে মাঠ, ঘাট, নদী-নালা সর্বত্রই বরফে ঢাকা থাকে, সেখানেও প্রাকৃতিক উদ্ভিদকুল সবুজের ডানা মেলে এবং বরফ আচ্ছাদিত মাছ স্বাভাবিক জীবন পরিচালনের মাধ্যমে স্রষ্টার অপার মহিমার জানান দেয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে নবী করিম (সা.)
মানুষের অপরিকল্পনা, অদূরদর্শিতা ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে প্রকৃতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এটি সারা বিশ্বের মানুষের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ফলে বায়ুতে দূষণ, তাপমাত্রা, রোগবালাই ও প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ বেড়ে চলেছে। এসব বিপর্যয় থেকে বাঁচার জন্য বিজ্ঞানীরা বনরক্ষা ও বৃক্ষরোপণকে অন্যতম উপায় বলে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
অথচ নবী করিম (সা.) সেই চৌদ্দশ বছর আগে বৃক্ষ বা বন রক্ষার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। বৃক্ষ বা শস্য নষ্ট করাকে নিরুৎসাহিত করে তিনি মানুষকে উপদেশ দিয়েছেন। জনৈক ব্যক্তি একটি গাছের পাতা ছিঁড়লে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেকটি পাতা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে।’
গাছপালা, লতাপাতা মানুষ ও জীবজন্তুর জন্য খাদ্য সরবরাহ করে, মানুষ ও জীবের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে। গাছপালা ঝড়-ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ করে এবং মাটির ক্ষয়রোধ করে। এ প্রসঙ্গে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি একটি বৃক্ষের চারা রোপণ করে অথবা ক্ষেতখামার করে, অতঃপর তা মানুষ, পাখি কোনো জন্তু ভক্ষণ করে, তা তার জন্য সদকার সওয়াব হবে।’ সহিহ মুসলিম : ৫৫৩২
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি নিশ্চিতভাবে জানো যে, কিয়ামত এসে গেছে, তখন হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে যা রোপণ করা যায়, তবে সেই চারাটি লাগাবে।’ সহিহ মুসলিম : ৫৫৬০
প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে ইসলামের মৌলনীতি
পরিবেশ সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য অতীব প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। এজন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার দাবিতে দুনিয়া জুড়ে আজ সম্মিলিত রব উঠেছে। কিন্তু কিছু মানুষের অদূরদর্শিতা ও অমানবিক আচরণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ দিন দিন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। অথচ প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে ইসলামের মৌলনীতি হলো, প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির কোনোরূপ ধ্বংস বা বিনাশ, অপচয় বা অপব্যবহার করা সমীচীন নয়। কেননা প্রতিটি সৃষ্টিই কোনো না কোনোভাবে মানুষ বা অন্য কোনো সৃষ্টিকে সেবা দানে সদা অবিচল। এজন্য পরিবেশ ধ্বংসের যেকোনো ধরনের উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা মানুষসহ অন্যান্য সৃষ্টিকে আল্লাহপ্রদত্ত সেবা থেকে বঞ্চিত করার নামান্তর। 
 

আরও পড়ুন