তানজানিয়ায় ইসলামের ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ২১:২০
পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্র তানজানিয়া ১৯৬৪ সালের ২৫ এপ্রিল টাঙ্গানিকা ও জানজিবারের একীভূত হওয়ার মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রায় ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশটির উত্তরে কেনিয়া ও উগান্ডা, পশ্চিমে রুয়ান্ডা ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণে মোজাম্বিক ও জাম্বিয়া অবস্থিত।
২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৬৬ লাখ। এর মধ্যে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ খ্রিস্টান, ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম এবং বাকি জনগণ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ধর্ম অনুসরণ করে। বিশেষ করে জানজিবার ও আশপাশের দ্বীপাঞ্চলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। দেশটির অধিকাংশ মুসলমান সুন্নি মতাবলম্বী।
তানজানিয়ার সঙ্গে আরব ও ভারতীয় উপমহাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বহু শতাব্দী পুরোনো। দশম শতাব্দী থেকেই আরবের হাজরামাউত ও পরে ওমান থেকে আগত মুসলিম ব্যবসায়ীরা পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে বসতি স্থাপন করেন। মাফিয়া, বাগামোয়ো, কিলওয়া ও জানজিবারসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের বসতি গড়ে ওঠে এবং সেখান থেকেই ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
একাদশ শতকে এ অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মিসরের মামলুক ও ভারতের বাহমনী সুলতানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ১৬ শতকের শুরুতে পর্তুগিজরা এ অঞ্চলে প্রবেশ করলেও ১৬৫২ সালে ওমানের সুলতানদের সহায়তায় তারা বিতাড়িত হয়।
১৮৮৮ সালে তানজানিয়ার ভূখণ্ড ব্রিটেন, জার্মানি ও ইতালির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ১৯৬১ সালে টাঙ্গানিকা এবং ১৯৬৩ সালে জানজিবার স্বাধীনতা অর্জন করে। পরের বছর দুটি অঞ্চল একীভূত হয়ে তানজানিয়া প্রজাতন্ত্র গঠন করে।
পরবর্তীকালে ইউরোপীয় খ্রিস্টান মিশনারিরা দেশটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। তারা বিপুলসংখ্যক গির্জা, বিদ্যালয়, হাসপাতাল ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলে। এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার প্রসার ঘটে এবং মুসলিম সমাজে নতুন সামাজিক পরিবর্তন দেখা দেয়।
বর্তমানে তানজানিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা মূলত ধর্মনিরপেক্ষ। তবে মুসলিম অধ্যুষিত দারুস সালাম, দোদোমা, টাঙ্গা, কিলওয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে শিশুদের জন্য কোরআন শিক্ষার মক্তব পরিচালিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় মুসলিমদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হলেও প্রাথমিক শিক্ষায় তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
দেশজুড়ে ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদ রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি জরিপ অনুযায়ী, তানজানিয়ায় প্রায় ৮৬১টি ছোট-বড় মসজিদ রয়েছে। রাজধানী দোদোমায় অবস্থিত গাদ্দাফি মসজিদ দেশটির জাতীয় ও বৃহত্তম মসজিদ। লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অর্থায়নে নির্মিত এ মসজিদ পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত।
মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল মুসলিম কাউন্সিল অব তানজানিয়া ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি তাবলিগ জামাতসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন দেশটিতে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চা আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং তানজানিয়ার মুসলিম সমাজে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিফলন/ এজে
আরও পড়ুন
- • আন্দোলনরত তরুণদের পাশে থাকার আহ্বান শচীনের
- • এক দিনের ব্যবধানেই মোদির সাফাই গাইলেন সালমান খান
- • শনিবার নভোথিয়েটারে সেমিকন্ডাক্টর সামিটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
- • সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
- • ১৭ বছর পর লর্ডসে ফিরছে বাংলাদেশ
- • যুক্তরাষ্ট্রকে অবস্থান বদলের আহ্বান ইরানের
- • মসজিদে নববিতে চালু হলো ভ্রাম্যমাণ ধর্মীয় সেবাকেন্দ্র
- • তানজানিয়ায় ইসলামের ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- • চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলা চালাল ইরান
- • সন্ধ্যার মধ্যে ৭টি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
- • পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৫ সেনা নিহত
- • নাগরিক সেবায় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু
- • সমঝোতা চুক্তি 'স্থগিত' ঘোষণা করল ইরান
- • মার্কিন এলইউসিএএস ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান
- • সিরিজ বাঁচানোর মিশনে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
