১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০২:৫০

শিরোনাম
উগ্রবাদে জিরো টলারেন্স, বিরোধীদলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ২৬ কার্যদিবসে ১০ বিল পাসের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহ, মিলল ইউরোপের আশ্বাস ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চট্টগ্রাম চেম্বারের ১ কোটি টাকার অনুদান
শিরোনাম
উগ্রবাদে জিরো টলারেন্স, বিরোধীদলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ২৬ কার্যদিবসে ১০ বিল পাসের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক এয়ারবাসের বিমান সংগ্রহে সরকারের আগ্রহ, মিলল ইউরোপের আশ্বাস ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চট্টগ্রাম চেম্বারের ১ কোটি টাকার অনুদান

দুই বছর পরও শুকায়নি শহীদ ওয়াসিমের মায়ের চোখের জল

দুই বছর পরও শুকায়নি শহীদ ওয়াসিমের মায়ের চোখের জল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০০:৪৬

‘কোটা নয়, মেধা’ স্লোগানে ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ওয়াসিম আকরামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় ওয়াসিমসহ আরও তিনজন প্রাণ হারান।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম ছিলেন প্রবাসী শফিউল আলম ও জোসনা আক্তার দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ এই তরুণের জীবন থেমে গেলেও তার আত্মত্যাগ আজও স্মরণ করেন স্বজন, সহপাঠী ও অসংখ্য মানুষ।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সন্তানের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি মা জোসনা আক্তার। ওয়াসিমের কিনে দেওয়া স্মার্টফোনটি এখনও বুকের কাছে আগলে রাখেন তিনি। ছেলের শেষ স্মৃতিগুলোই এখন তার একমাত্র সান্ত্বনা। প্রায়ই ফোনটির দিকে তাকিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘এই ফোনে আর ছেলের কল আসে না।’

শেষ কথোপকথনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, ঘটনার আগের রাতেও ওয়াসিম ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরব।’ কথাটি সত্যি হলেও জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। সেই বেদনা আজও নীরবে বহন করে চলেছে পুরো পরিবার।

শিক্ষাজীবনে ২০১৭ সালে মেহেরনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ওয়াসিম। পরে চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর সময় তিনি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও স্থানীয়রা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের হত্যার বিচার এবং তাদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করছেন তারা।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি আজও অমলিন। রাজপথের রক্তের দাগ মুছে গেলেও একজন মায়ের বুকের ক্ষত, অপূর্ণ স্বপ্ন আর ন্যায়বিচারের অপেক্ষা এখনও রয়ে গেছে একই রকম গভীর।

প্রতিফলন/ এজে

আরও পড়ুন