১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:৩২

শিরোনাম
ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শতাধিক যুগ্মসচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সংযুক্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ছয় সংসদীয় কমিটি গঠন প্রধানমন্ত্রীর বহরের গাড়িতে ইটের টুকরো, নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর, উদ্বোধন করবেন স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রধান হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
শিরোনাম
ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শতাধিক যুগ্মসচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সংযুক্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ছয় সংসদীয় কমিটি গঠন প্রধানমন্ত্রীর বহরের গাড়িতে ইটের টুকরো, নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের ঢাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর, উদ্বোধন করবেন স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্ম সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রধান হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ।

একই সঙ্গে স্বল্পসুদে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যে তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসি গ্রুপের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ততই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলডিসিগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের চাপ, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, ডিজিটাল বৈষম্য এবং সহজলভ্য অর্থায়নের অভাব এসব দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সংকট শুধু ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়, ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে টেকসইভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের লক্ষ্যকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

ড. তিতুমীর জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব দেশের জন্য ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, নজিরবিহীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে।

এ সময় তিনি বলেন, অতিরিক্ত সময় নেওয়া কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে ড. তিতুমীর পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রথমত—ঋণের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় ও সহজ শর্তের উন্নয়ন অর্থায়ন বাড়াতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত—আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার করে সহজ শর্তে অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা এবং ন্যায্য বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত—জলবায়ু অর্থায়নকে সহজপ্রাপ্য ও পূর্বানুমেয় করতে হবে। অভিযোজন, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি রূপান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিলে পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থত—এলডিসিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং সহজ ও উন্নয়নবান্ধব বাণিজ্য নিয়ম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পঞ্চমত—প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দোহা কর্মসূচির মধ্য মেয়াদি পর্যালোচনাকে টেকসই উন্নয়নের গতি ফিরিয়ে আনার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে এলডিসি গ্রুপ সব অংশীদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন