রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ, কমছে বৈশ্বিক সহায়তা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর শুরু হওয়া রোহিঙ্গা ঢল এখনও পুরোপুরি থামেনি। গত দেড় বছরেও প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন আরও প্রায় দেড় লাখ মিয়ানমারের নাগরিক। নতুন এই ঢলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সমন্বিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচি জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রথম কয়েক বছরে বিলিয়ন ডলারের সহায়তা এলেও সময়ের সঙ্গে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরে ৭১০ মিলিয়ন ডলারের যে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, তা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলেন, ২০১৭ সালে যে পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছিল, এখনও অনেকেই একই ধরনের নির্যাতন ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। অন্যদিকে সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবিরের জীবনযাত্রাও কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রুত প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা না থাকায় সংকট সমাধানে নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালের পর বিশ্বে গাজা, সুদান ও ইউক্রেনসহ একাধিক বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বৈশ্বিক মনোযোগের একটি বড় অংশ সেদিকে চলে গেছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকট আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এদিকে সরকার আশা করছে, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্রিয়তা রোহিঙ্গা ইস্যুকে নতুন করে গুরুত্ব এনে দিতে পারে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়সহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম চাপে পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক দায়িত্ব রোহিঙ্গা সংকটকে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, গত বছর আন্তর্জাতিক সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রায় অর্ধেক অর্থ পাওয়া গেছে। ফলে খাদ্যসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা একজন শরণার্থীর প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এতে অপুষ্টি, হতাশা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চীনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
- • নাগেলসমানের বিদায়, ক্লপকে দেয়া হলো জার্মানির দায়িত্ব
- • সৌদি আগ্রাসন ঠেকাতে পাল্টা হামলার ঘোষণা হুতিদের
- • আগামী ৫ দিন কেমন থাকবে, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • জবি ক্যারিয়ার ক্লাবে শতাধিক নবীন সদস্যের ওরিয়েন্টেশন
- • তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই ফ্রান্সে দাবানল, পুড়ছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল
- • তারেক রহমানের চীন সফরের আলোচনায় নজর রেখেছে ভারত
- • আমিরের তৃতীয় বিয়ের অতিথি দুই প্রাক্তন স্ত্রী
- • খামেনির মৃত্যুতে শোক, ইরানের পাশে থাকার বার্তা বাংলাদেশের
- • ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের
- • বাহরাইনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল ইরান
- • টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট শুরু
- • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানে মার্কিন হামলা, হরমুজে ফের অস্থিরতা
- • ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর আবার কাঁপল ভেনেজুয়েলা, নতুন কম্পনে বাড়ল আতঙ্ক
- • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের প্রাণহানি
- • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০
- • বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প
- • ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত প্রায় ১,৫০০
