নীরব সংকটে পুরুষ, কমছে যৌন সক্ষমতা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১৫:০৬
পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন শুধু পেশি গঠন বা শারীরিক শক্তির জন্য নয়, প্রজননক্ষমতা, যৌনস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য গত প্রায় পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
পাঁচ দশকে টেস্টোস্টেরনে বড় পতন
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি (ESHRE)-এর বার্ষিক সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদের মতে, এটি সাময়িক নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে একই ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ টেস্টোস্টেরন?
টেস্টোস্টেরন পুরুষের বয়ঃসন্ধিকাল, পেশির বিকাশ, হাড়ের দৃঢ়তা, যৌন আগ্রহ এবং শুক্রাণু উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌনক্ষমতা, প্রজননক্ষমতা, শারীরিক কর্মক্ষমতা এবং জীবনমান সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কেন কমছে এই হরমোন?
গবেষকদের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পরিবেশে থাকা কিছু হরমোন-বিঘ্নকারী রাসায়নিকও (Endocrine-disrupting chemicals) এ ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি এখনই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কয়েক দশক ধরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় ভবিষ্যতে এটি জনস্বাস্থ্যের বড় সংকটে রূপ নিতে পারে।
শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, কমছে শুক্রাণুর সংখ্যাও
একই গবেষক দলের আগের গবেষণাতেও বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছিল। নতুন গবেষণা সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। যদিও এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, তবু অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
কী করা যেতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ কমানো টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং কার্যকর সমাধান বের করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন
- • উগ্রবাদে জিরো টলারেন্স, বিরোধীদলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- • তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে ভাঙার চেষ্টা, অভিযুক্ত চাচি
- • দুই বছর পরও শুকায়নি শহীদ ওয়াসিমের মায়ের চোখের জল
- • ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক, বাদ ডি পল
- • ২৬ কার্যদিবসে ১০ বিল পাসের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানে নিহত ৩৫, আহত তিন শতাধিক
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • ‘চোরের দলের খেলা কবে’ লিখতেই আসছে আর্জেন্টিনার তথ্য!
- • ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ আমার নাম এক নম্বরে: ট্রাম্প
- • নিজভূমে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
- • একজোট হয়ে ইরানকে প্রতিহত করার ঘোষণা আরব দেশগুলোর
- • চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনা
- • ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারের মৃত্যু
- • ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
- • চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা
- • বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন
- • নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক আগামীকাল
