২৩ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১১:১০

শিরোনাম
সার–সংকটে খাদ্য উৎপাদনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির রিহ্যাবের ৬ দফা, আবাসনে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর হুতিদের নৌ অবরোধে কড়া নিন্দা বাংলাদেশের ইউপি নির্বাচন কবে? জানালেন মির্জা ফখরুল বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ চায় সরকার দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সরকারের মৃত্যুর ২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঠাঁই পেল আহমদ ছফার দেহাবশেষ
শিরোনাম
সার–সংকটে খাদ্য উৎপাদনের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ: ডব্লিউএফপি অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ইসির রিহ্যাবের ৬ দফা, আবাসনে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর হুতিদের নৌ অবরোধে কড়া নিন্দা বাংলাদেশের ইউপি নির্বাচন কবে? জানালেন মির্জা ফখরুল বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ চায় সরকার দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান সরকারের মৃত্যুর ২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ঠাঁই পেল আহমদ ছফার দেহাবশেষ

ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেনজি আন্দোলন’, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেনজি আন্দোলন’, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৪৭

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘জেনজি আন্দোলন’ এখন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়রাও। এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট।

দিল্লির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের লখনৌ, বিহারের পাটনা, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ, গুজরাটের সুরাট এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পুলিশি বলপ্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিদেশেও সংহতি

আন্দোলনের প্রভাব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বিক্ষোভ হয়েছে।

লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভারতীয় আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান। একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার, জার্মানির বার্লিন এবং নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সামনে। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

আলোচনার উদ্যোগেও কাটেনি অচলাবস্থা

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিরোধী দল এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্ন

আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। সংঘর্ষের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরার ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কোনো সমাবেশ বেআইনি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দিল্লি প্রশাসন ও পুলিশকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে

সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ সরকারি যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, ফলে জনসাধারণের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টানা আন্দোলন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ভারতের পরিস্থিতিকে নতুন এক সংকটময় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে এই সংকট কত দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে।

আরও পড়ুন