০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ১৪:৪০

শিরোনাম
ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩
শিরোনাম
ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন বাংলাদেশে আসছে বিদেশি সাপ, মাকড়সা ও অন্যান্য প্রাণী

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন বাংলাদেশে আসছে বিদেশি সাপ, মাকড়সা ও অন্যান্য প্রাণী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে সম্প্রতি এক অভিযানে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ন স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গেকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। আইন অনুযায়ী এসব প্রাণীর অনেকগুলো বাংলাদেশে আমদানি, সংরক্ষণ ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কীভাবে এসব প্রাণী দেশে প্রবেশ করছে এবং কেনই–বা এদের চাহিদা বাড়ছে?

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর একটি বড় অংশ বিষাক্ত বা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এসব প্রাণী দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি প্রাণীর মাধ্যমে নতুন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, দেশে বিদেশি প্রাণী পোষার প্রবণতা বেড়েছে। অনুমোদিত কিছু প্রাণী আমদানির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই অবৈধভাবে নিষিদ্ধ প্রাণীও দেশে নিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, বিমানবন্দরে এ ধরনের প্রাণী শনাক্তে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মিরপুরের অভিযানে যে স্থান থেকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে আরও কয়েক হাজার প্রাণী আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে ধারণা করছে বন বিভাগ। এতে দেশে বিদেশি প্রাণীর একটি সক্রিয় বাজার থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আদনান আজাদের মতে, এসব প্রাণী শুধু শখের বসে পালনের জন্যই নয়, বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যেও আনা হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি প্রাণী কোনো দেশে আনার আগে তাদের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া এসব প্রাণী পরিবেশে ছাড়লে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং নতুন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে বন বিভাগের দাবি, বিমানবন্দর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক বলেন, অ্যাকুরিয়াম মাছ, উদ্ভিদ বা অন্য পণ্যের আড়ালে অনেক সময় অবৈধভাবে প্রাণী আনার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনেক প্রাণী জব্দও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত ও বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন