১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৬:০০

শিরোনাম
ফিরলে শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ বরিশালে সাংগঠনিক সভায় যে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের মসজিদে বৃষ্টির পানি, সারি সারি বালতি অনলাইনে মাদক ব্যবসায় আসছে মৃত্যুদণ্ডের আইন বন্যার মধ্যেও বন্ধ হচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কবে চালু হবে, জানালেন নৌপরিবহনমন্ত্রী আগামীকাল ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় মার্কিন ভিসায় নতুন নিয়ম, জানাতে হবে ৫ বছরের সামাজিক যোগাযোগ তথ্য
শিরোনাম
ফিরলে শেখ হাসিনাকে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়েদ বরিশালে সাংগঠনিক সভায় যে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের মসজিদে বৃষ্টির পানি, সারি সারি বালতি অনলাইনে মাদক ব্যবসায় আসছে মৃত্যুদণ্ডের আইন বন্যার মধ্যেও বন্ধ হচ্ছে না এইচএসসি পরীক্ষা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কবে চালু হবে, জানালেন নৌপরিবহনমন্ত্রী আগামীকাল ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় মার্কিন ভিসায় নতুন নিয়ম, জানাতে হবে ৫ বছরের সামাজিক যোগাযোগ তথ্য

একই কারখানায় ১৪৭ শ্রমিক অসুস্থ, রহস্য কাটেনি এখনো

একই কারখানায় ১৪৭ শ্রমিক অসুস্থ, রহস্য কাটেনি এখনো

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২২:৫৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় টানা দুই দিনে ১৪৭ শ্রমিকের রহস্যজনক অসুস্থতার ঘটনায় এখনো নিশ্চিত কোনো কারণ শনাক্ত হয়নি। হঠাৎ করে একই ফ্লোরে একের পর এক শ্রমিক মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বুকে ও পেটে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায়। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার পঞ্চম তলার সুইং সেকশনের অপারেটর শারমিন প্রথমে অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই একই ফ্লোরের আরও অনেক শ্রমিক একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হন।

প্রথম দিনে ৭০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেন। পরদিন আরও ৭৭ জন অসুস্থ হলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৭ জনে। গুরুতর কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে এত শ্রমিক একসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনার পর অসুস্থদের সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে মাওনা চৌরাস্তার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকলেও অধিকাংশ রোগী সেখানে আসেননি। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের বাণিজ্যিক চুক্তি থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আক্রান্ত শ্রমিকদের শরীরে রাসায়নিক বিষক্রিয়ার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। আল হেরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুল্লাহ নকিব জানান, সাধারণ চিকিৎসার পর অধিকাংশ শ্রমিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

ঘটনার পর ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটির প্রধান শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম ভূঞা জানান, খাদ্য, পানীয় পানি, সম্ভাব্য গ্যাস, রাসায়নিক পদার্থ, অক্সিজেনের মাত্রা, স্বাস্থ্যবিধি ও কর্মপরিবেশসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডাইফ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই মাস আগে পরিদর্শনে কারখানাটিতে বড় কোনো স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসও কারখানার জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে।

সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এখন সবার অপেক্ষা—তদন্তেই বের হবে একই সময়ে একই ফ্লোরে এত শ্রমিকের অসুস্থ হওয়ার প্রকৃত কারণ।

আরও পড়ুন