জিলহজ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬, ১৫:৩৫
আরবি বর্ষপঞ্জির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মাস হলো জিলহজ। এই মাসে হজ, কোরবানি ও বহু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালিত হয়। কোরআন ও হাদিসে জিলহজের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। নিচে এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
১. তাওবা ও আত্মশুদ্ধি
জিলহজ মাসে বেশি বেশি তাওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ তাওবা করো।”
— সুরা তাহরিম: ৮
তাওবার মাধ্যমে বান্দা গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে।
২. বেশি বেশি জিকির করা
জিলহজের প্রথম দশকে আল্লাহর জিকির, তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
“যেন তারা নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।”
— সুরা হজ: ২৮
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এখানে “নির্দিষ্ট দিন” বলতে জিলহজের প্রথম ১০ দিন বোঝানো হয়েছে।
৩. নেক আমল বৃদ্ধি করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় অন্য কোনো আমল নেই।”
— সহিহ বুখারি: ৯৬৯
তাই নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও নফল ইবাদত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
৪. সামর্থ্য থাকলে হজ পালন
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের ওপর হজ ফরজ।
রাসুল (সা.) বলেন—
“কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।”
— তিরমিজি: ৮১০
৫. কোরবানি আদায়
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কোরবানি কর।”
— সুরা কাউসার: ২
সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
৬. চুল ও নখ না কাটা
যারা কোরবানি করবেন, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি না দেওয়া পর্যন্ত চুল, পশম ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবেন।
“তোমাদের কেউ কোরবানির ইচ্ছা করলে সে যেন চুল ও নখ না কাটে।”
— সহিহ মুসলিম: ১৯৭৭
৭. তাকবির, তাহমিদ ও তাহলিল পাঠ
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি পড়তে হবে—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
রাসুল (সা.) এ দিনগুলোতে বেশি তাকবির ও তাহলিল পাঠ করতে উৎসাহ দিয়েছেন।
৮. তাকবিরে তাশরিক আদায়
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব।
اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
৯. নফল রোজা রাখা
জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজার ফজিলত অনেক বেশি।
রাসুল (সা.) বলেন—
“আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়।”
— সহিহ মুসলিম: ১১৬২
জিলহজ মাস আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসের আমলগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
- • ফোর্বসের ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকায় জায়গা পেলেন হানিয়া আমির
- • ধর্মেন্দ্রর বায়োপিকে কে? জবাব দিলেন ববি
- • মেধা হারাচ্ছে দেশ
- • মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ
- • আবারো বাড়ল দেশের রিজার্ভ
- • আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, মিলল তদন্তের প্রতিবেদন
- • কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশি
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • নতুন গানে পরীমণি
- • কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- • লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর দফায় দফায় পাল্টা হামলা
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
