বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিতে নতুন সমীকরণ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৮
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থলসীমান্ত ও আকাশসীমাকেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এবার ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পাকিস্তানি পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নৌ-অঙ্গনে ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অসম কৌশলগত যুদ্ধনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রচলিত নৌবাহিনীর শক্তিতে ভারতের সঙ্গে সমতা আনা পাকিস্তানের পক্ষে কঠিন হলেও আধুনিক সাবমেরিন ব্যবহার করে ‘সি ডিনায়াল’ কৌশল বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সহায়তায় নির্মিত এআইপি (এয়ার-ইন্ডিপেনডেন্ট প্রপালশন) প্রযুক্তিসমৃদ্ধ হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করতে সক্ষম। ফলে এসব সাবমেরিন শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌপথের জন্য কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ঐতিহ্যগতভাবে ভারতীয় নৌবাহিনী আরব সাগরকেন্দ্রিক পাকিস্তানি উপস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকলেও বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সক্রিয়তা ভারতের জন্য নতুন ধরনের দ্বিমুখী নৌ-চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এতে পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ড এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব শুধু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুট হওয়ায় আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্ব নতুনভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক বিশ্লেষক পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের পেছনে চীনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের প্রতিফলন দেখছেন। তাদের মতে, ভারত মহাসাগর ও মালাক্কা প্রণালীর দিকে ভারতের প্রভাব মোকাবিলায় চীন পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় সাবমেরিন সক্ষমতা, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (এএসডব্লিউ) প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই নতুন নৌ-সমীকরণ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
- • ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ
- • বৈরী আবহাওয়ায় চবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা
- • এবার সৌরভ গাঙ্গুলির বায়োপিকে রাজকুমার রাও
- • ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারি, আস্থা রাখছেন দেশাম
- • সালমান খানের নতুন লুক নিয়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস
- • ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গ্রাম
- • এইচএসসিতে অসদুপায়ের দায়ে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি
- • ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
- • প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’
- • ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি
- • খামেনির শেষবিদায়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান
- • অবশেষে খামেনির শেষকৃত্যে শ্রদ্ধা জানাল সৌদি
- • জুলাই সনদের প্রতি বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল
- • পারমাণবিক অস্ত্রের সমান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি: দিমিত্রি মেদভেদেভ
- • জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে, প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- • যুদ্ধবিরতিকে সামরিক প্রস্তুতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান
- • ৪ কোম্পানিকে আমানত পরিশোধে ৩ মাসের সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
- • চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
