০১ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ২৩:৫১

শিরোনাম
হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অর্থবছরে রেমিটেন্সে বিরাট পরিবর্তন, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ‘নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়’:স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে’: তথ্যমন্ত্রী নতুন ৩টি উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দেশের সব জেলায় রেল সংযোগের পরিকল্পনা,  বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’
শিরোনাম
হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অর্থবছরে রেমিটেন্সে বিরাট পরিবর্তন, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ‘নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়’:স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে’: তথ্যমন্ত্রী নতুন ৩টি উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দেশের সব জেলায় রেল সংযোগের পরিকল্পনা,  বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন আজ থেকে বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’

এআইয়ের সবচেয়ে বড় ফাঁদ কি?

এআইয়ের সবচেয়ে বড় ফাঁদ কি?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৮

কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন আর দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন উৎস ঘাঁটতে হয় না। কয়েক সেকেন্ডেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গুছিয়ে উত্তর হাজির করছে। এতে যেমন মানুষের কাজ সহজ হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নতুন এক মানসিক ঝুঁকিও। গবেষকদের মতে, এআইয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভুল তথ্য দেওয়া নয়; বরং এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর উপস্থাপন করা, যা ব্যবহারকারীকে ভুল তথ্যও সহজে বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানভিত্তিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির প্রতিটি বড় পরিবর্তনের মতো এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মানুষের নতুন ধরনের দক্ষতা ও সতর্কতা প্রয়োজন। কোনো উত্তর দ্রুত পাওয়া গেলেই সেটিকে চূড়ান্ত সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং নিজের বিচার-বিবেচনা দিয়ে তথ্যটি যাচাই করা জরুরি।

গবেষকদের ভাষ্য, এআইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অল্প সময়ের মধ্যে সাবলীল ও যুক্তিসংগত ভাষায় উত্তর তৈরি করা। তবে সেই উত্তর সব সময় নির্ভুল, পূর্ণাঙ্গ কিংবা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। সমস্যা হলো, উত্তরগুলো এমন আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয় যে অনেক ব্যবহারকারী সেগুলো যাচাই করার প্রয়োজনই মনে করেন না।

এ বিষয়টি বোঝাতে গবেষকেরা একটি উদাহরণ দিয়েছেন। আগে কেউ নতুন কোনো রান্নার রেসিপি জানতে চাইলে অভিজ্ঞ রাঁধুনির পরামর্শ বা বহু মানুষের পরীক্ষিত রেসিপির ওপর নির্ভর করতেন। এখন এআই মুহূর্তেই নতুন রেসিপি তৈরি করে দিতে পারে। কিন্তু যন্ত্রের নিজের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই; এটি রান্না করতে বা খাবারের স্বাদ নিতে পারে না। ফলে ব্যবহারকারীর নিজস্ব জ্ঞান যত কম হবে, এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন তত বেশি।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে এমন একটি স্বাভাবিক মানসিক প্রবণতা রয়েছে, যেখানে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যাটিকেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়। এআইয়ের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলোর ‘গোল্ডেন হ্যামার’ তত্ত্বের উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। এই ধারণা অনুযায়ী, কারও হাতে যদি শুধু একটি হাতুড়ি থাকে, তাহলে তার কাছে সব সমস্যাই পেরেক বলে মনে হয়। একইভাবে, এআই সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় অনেকের মনে হতে পারে, সব সমস্যার সমাধান এখানেই পাওয়া সম্ভব।

গবেষণায় নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কানেম্যানের কাজের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দেখিয়েছিলেন, মানুষের অন্যতম বড় মানসিক পক্ষপাত হলো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। কোনো ব্যাখ্যা যদি বিশ্বাসযোগ্য ও সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়, তাহলে মানুষ অনেক সময় সেটিকেই সম্পূর্ণ সত্য হিসেবে ধরে নেয়। ফলে সেখানে কী তথ্য বাদ পড়েছে বা কোথায় ভুল থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখার প্রবণতা কমে যায়।

তবে গবেষকদের মতে, এআই ব্যবহার না করার কোনো কারণ নেই। বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, তথ্য সংগ্রহ এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশেষ করে যেসব বিষয়ে ব্যবহারকারীর নিজস্ব জ্ঞান সীমিত, সেসব ক্ষেত্রে এআইয়ের দেওয়া তথ্য নির্ভরযোগ্য অন্য উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

গবেষকদের মতে, এআইকে একজন সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কারণ প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, শেষ পর্যন্ত বিচার-বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মানুষেরই।

আরও পড়ুন