বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসে বাংলা গানের সুর, ফুটবলে উৎসবের ভাষা হয়ে উঠছে সংগীত
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ১৬:৩৫
ফুটবল বিশ্বকাপ এখন আর শুধু মাঠের খেলা নয় এটি হয়ে উঠেছে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও উৎসবের এক বৈশ্বিক প্রকাশ। চার বছর পরপর বিশ্বসেরা দলগুলোর লড়াই ঘিরে যেমন তৈরি হয় উত্তেজনা, তেমনি সেই উন্মাদনার ছাপ পড়ে সংগীত, বিনোদন ও সামাজিক সংস্কৃতিতেও। বাংলাদেশের মতো ফুটবলপ্রেমী দেশে বিশ্বকাপ এলেই সেই আবেগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে বাংলা গান।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলা ভাষায় তৈরি হয়েছে একাধিক গান, যেখানে ফুটবলের উত্তেজনা, জয়ের স্বপ্ন এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতির বার্তা একসঙ্গে উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপ গানে মাহবুবুল খালিদের ধারাবাহিকতা
বাংলা বিশ্বকাপ গানের জগতে গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তাঁর ‘খালিদ সংগীত’ প্ল্যাটফর্ম থেকে বিভিন্ন বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একাধিক গান প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রকাশিত ‘নান নান নান না’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন কনা। ফুটবলের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি এতে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘ও-লে-লে-ও-লে-লে বিশ্বকাপ’ এবং ‘এসো ফুটবল খেলি’ গান দুটি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘বিশ্বকাপে বিশ্ব মাতে’ গানটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে জাতি–ধর্ম–বর্ণের বিভাজন ভুলে একতার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
নতুন প্রজন্মের বিশ্বকাপ অ্যান্থেম
আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে একাধিক নতুন গান। এর মধ্যে ‘ফুটবল ফুটবল’ গানটি সুর করেছেন আরমান খান এবং কণ্ঠ দিয়েছেন বিজয় মামুন। গানটি বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও সমর্থকদের আবেগকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
বেঙ্গল আই মিউজিক থেকে প্রকাশিত ‘চলো এগিয়ে যাই’ ও ‘জাগো জাগো-রে’ গান দুটি মূলত ফুটবল অ্যান্থেম হিসেবে উপস্থাপিত, যেখানে খেলাধুলার ইতিবাচক শক্তি ও তরুণদের অনুপ্রেরণার কথা উঠে এসেছে।
এ ছাড়া আধুনিক ইলেকট্রনিক ঘরানার ‘উল্লাস ছড়িয়ে দাও’ গানটি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যেখানে স্টেডিয়ামধর্মী সাউন্ডে ফুটবলের উন্মাদনা তুলে ধরা হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপের ভাইরাল সংগীত
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে ‘জমবে রে জমবে এবার ফুটবল বিশ্বকাপ’। গগন সাকিব ও সুমাইয়ার কণ্ঠে গাওয়া এই গানটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে বিশ্বকাপের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও বিস্তৃত করে।
কলকাতার ফুটবল আবেগ
পশ্চিমবঙ্গেও বিশ্বকাপ ঘিরে সংগীতচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। কলকাতা শহর ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘হোক খেলা’ গানটিতে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উৎসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রকাশিত ‘গো ফর গোল’ ছিল একাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে তৈরি একটি যৌথ সংগীত প্রকল্প, যা সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
বিশ্বকাপ যতই এগিয়ে আসে, ফুটবল ততই কেবল খেলায় সীমাবদ্ধ থাকে না তা রূপ নেয় সংস্কৃতি, আবেগ ও সুরের এক বৈশ্বিক উৎসবে। বাংলা গান সেই উৎসবেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন
- • দক্ষ জনগোষ্ঠী গঠনে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
- • জেনেটিক ঝুঁকির সতর্কবার্তা: খালাতো–চাচাতো বিয়েতে বাড়ছে উদ্বেগ
- • আবার ফাইনালে দেখা হলে আর্জেন্টিনাকে হারানোর হুঁশিয়ারি এমবাপ্পের
- • অবতরণের সময় বিধ্বস্ত ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান
- • মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকবে
- • ট্রাকে করে মানুষ এনে পুশইনের অভিযোগ, সীমান্তে টানটান উত্তেজনা
- • বিড়াল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শাহবাগে মেট্রোরেল বন্ধ ২৫ মিনিট, যাত্রী ভোগান্তি চরমে
- • ব্রাজিলের ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন মরক্কোর আশরাফ হাকিমি
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • পাবনায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও ৩ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
- • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য আশির্বাদ
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
