আইএমএফের নতুন শর্ত কতটা পূরণ হলো? পর্যালোচনায় আসছে প্রতিনিধিদল
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০৬:০৮
বাংলাদেশের জন্য চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে শর্ত পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে আবারও ঢাকা আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৯ অক্টোবর দলটি দুই সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এর আগে ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পরই দলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে।
আইএমএফের গবেষণা বিভাগের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি শাখার প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকে ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম কিস্তি পর্যন্ত দেওয়া শর্ত, বিশেষ করে নতুন যুক্ত হওয়া ‘পরিমাণগত কর্মক্ষমতা মানদণ্ড’ (কিউপিসি) পূরণের বিষয়টি নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইএমএফ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। তবে সম্প্রতি এই কর্মসূচির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে এবং ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি ডলার বৃদ্ধি করে মোট ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে কিস্তির সংখ্যাও ৭টি থেকে বেড়ে ৮টি হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের নতুন সময়সীমা ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে।
এবারের সফরে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের মূল আলোচনার বিষয় হবে বাধ্যতামূলক শর্ত বা কিউপিসি পূরণ। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ঋণ গ্রহণের সীমা নির্ধারণ, জ্বালানি ও সার আমদানির বকেয়া পরিশোধ এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, গত জুন শেষে বাংলাদেশের নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ১ হাজার ৭৪০ কোটি ডলার থাকার কথা ছিল, যার বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৭৩ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি ও সারের বকেয়া পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রাও সন্তোষজনক।
তবে মূল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। শর্তানুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত এনবিআরের ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা কম।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, এর আগেও তিনবার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় অব্যাহতি নিতে হয়েছে। এবারও অব্যাহতি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে জোরালো আলোচনা হতে পারে।
এদিকে, কিস্তির পরিমাণেও পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তিতে ৫৩ কোটি ডলার করে পাওয়ার কথা থাকলেও নতুন সূচি অনুযায়ী, দুটি কিস্তিতে ৪৩ কোটি ডলার করে পাওয়া যাবে এবং শেষ কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ আগামী বছরের জানুয়ারিতে ছাড় হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে অন্যান্য শর্ত পূরণে সমস্যা নেই। তার মতে, কিস্তি পাওয়ার চেয়ে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
- • অবশেষে ২৪ জুলাই ঢাকার মঞ্চ মাতাবেন আতিফ আসলাম
- • এমি মার্টিনেজের আবেগঘন বার্তায় বিদায়ের ইঙ্গিত!
- • খেলা শেষে হাতাহাতি নিয়ে দুঃখিত নন পারেদেস
- • বাব আল-মান্দেবে হুতি হুমকি, তেলবাজারে নতুন শঙ্কা
- • বিশ্বকাপের সেরা গোল বাছাইয়ে ভোট শুরু
- • রেমিট্যান্সে শক্তিশালী সূচনা, ২০ দিনেই আসলো ২ বিলিয়ন ডলার
- • রেমিট্যান্সে শক্তিশালী সূচনা, ২০ দিনেই ২ বিলিয়ন আসলো ডলার
- • সব মামলায় জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই আফ্রিদির
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
