১৯ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ০৫:০৯

শিরোনাম
রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যান দ্রুত অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ জুলাই: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তীব্র হয় আন্দোলন সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জনস্বার্থে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তীত রেখেছে সরকার সংবিধান সংস্কার নয় বরং সংবিধান সংশোধন চাই: মির্জা ফখরুল
শিরোনাম
রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জনের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন ও পরিবেশ দূষণকারী যান দ্রুত অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ জুলাই: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তীব্র হয় আন্দোলন সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আজ বিশ্ব এআই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জনস্বার্থে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তীত রেখেছে সরকার সংবিধান সংস্কার নয় বরং সংবিধান সংশোধন চাই: মির্জা ফখরুল

শতাধিক কারখানা বন্ধ, তবু নতুন বিনিয়োগে আশার আলো পোশাক খাতে

শতাধিক কারখানা বন্ধ, তবু নতুন বিনিয়োগে আশার আলো পোশাক খাতে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭

দেশের তৈরি পোশাক খাত একদিকে যেমন কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের চাপে রয়েছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণে দেখা যাচ্ছে আশাব্যঞ্জক প্রবণতা। খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। এর ফলে নতুন কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাড়ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশে ১০০টির বেশি পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ৫০টি কারখানায় কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

তবে একই সময়ে প্রায় ৭০টি নতুন কারখানা উৎপাদনে এসেছে বা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও নতুন কর্মসংস্থান এখনো বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে দিতে পারেনি।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং পুরোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে গত দুই বছরে শ্রমিকসংখ্যা কমার প্রবণতা বেড়েছে, যা গত ছয় মাসে আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর আশা, সরকারের নেওয়া সহায়তামূলক পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে কারখানা বন্ধের হার কমবে এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়বে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীর নতুন বিনিয়োগ

পোশাক খাতে নতুন বিনিয়োগ এখন শুধু তৈরি পোশাক উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প, ম্যান-মেইড ফাইবার, সুতা এবং পোশাকের অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ছে।

এনভয় গ্রুপ ইতিমধ্যে সুতা ও ম্যান-মেইড ফাইবার উৎপাদনে দুটি নতুন কারখানা স্থাপন করছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ টন উৎপাদন সক্ষমতার এসব কারখানায় প্রায় ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এনভয় টেক্সটাইলের কোম্পানি সেক্রেটারি এম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশীয় সুতার চাহিদা আরও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, নরসিংদীতে চীনা অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পোশাকের অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনের বড় কারখানা চালু করেছে হা-মীম গ্রুপ। বর্তমানে সেখানে ২০০ জন কর্মী কাজ করছেন। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে ১০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিবিএল গ্রুপও অন্তর্বাস ও পোশাকের অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

নতুন বিনিয়োগ, তবু ছাঁটাই থামেনি

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসে ৪৪টি নতুন পোশাক কারখানা উৎপাদনে এসেছে। এসব কারখানায় প্রায় ১৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

অন্যদিকে, একই সময়ে ২৩টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় প্রায় ৫৭টি কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) জানিয়েছে, নিটওয়্যার খাতে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হলেও বন্ধ হওয়া কারখানার কারণে প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ৬২টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। একই সময়ে ১৪টি নতুন মিল উৎপাদনে এসেছে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

ব্যাংকঋণ নয়, নিজস্ব মূলধনে বিনিয়োগ

উচ্চ সুদের কারণে নতুন উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ ব্যাংকঋণ এড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে কারখানা স্থাপন করছেন।

স্টাইলোমোর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াহিয়া খান বলেন, নিজস্ব মূলধনে ছোট পরিসরে কারখানা চালু করেছেন তারা এবং ইতোমধ্যে ক্রয়াদেশও পাচ্ছেন।

ফ্যাশন ফ্লোর বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিনও একই পথ অনুসরণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সুদের হারে ব্যাংকঋণ নিয়ে পোশাক ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন। তাই নিজস্ব সঞ্চয় ও পারিবারিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

সরকারের নীতিতে বাড়ছে আস্থা

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সরকারের কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে বাজেটে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কয়েকটি খাতে কর-সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার বলেন, সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। তবে শুধু নীতি ঘোষণা নয়, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

খাত-সংশ্লিষ্টদের আশা, নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী সময়ে নতুন বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং ধীরে ধীরে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন