তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে ?
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১
পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রাহমানে একটি আয়াত বারবার ফিরে এসেছে। ‘ফাবি-আয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকায্যিবান’ অর্থাৎ, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ (সূরা আর-রাহমান: ১৩)। পুরো সূরায় এই আয়াত ৩১ বার উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই পুনরাবৃত্তি মানুষের ও জিনের সামনে আল্লাহর অগণিত অনুগ্রহ, ক্ষমতা ও নিদর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানায়।
সূরা আর-রাহমানে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি, মানুষ ও জিনের সৃষ্টি, আকাশ পৃথিবীর ভারসাম্য, ফলমূল, শস্য, সাগর, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা দিয়েছেন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার পর একই প্রশ্ন করা হয়েছে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?
তাফসিরবিদদের মতে, আয়াতে ব্যবহৃত ‘আ-লা’ (آلاء) শব্দের অর্থ শুধু ‘নিয়ামত’ নয়। এর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, মহিমা, অনুগ্রহ ও সৃষ্টিজগতের বিস্ময়কর নিদর্শনও বোঝানো হয়েছে। তাই আয়াতটি কেবল ভোগ করা অনুগ্রহের কথা নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার কুদরত ও প্রজ্ঞা উপলব্ধিরও আহ্বান।
সূরার শুরুতে পৃথিবীর সৃষ্টি ও জীবজগতের রিজিকের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খেজুর, শস্য, নানা ধরনের ফল ও খাদ্যসামগ্রীর উদাহরণ দিয়ে আল্লাহর নিখুঁত সৃষ্টিশৈলীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে তাঁর পরিকল্পনা, প্রজ্ঞা ও সীমাহীন ক্ষমতার প্রকাশ।
এই আয়াতে ব্যবহৃত ‘রাব্বিকুমা’ ও ‘তুকায্যিবান’ শব্দ দুটি দ্বিবচন। অর্থাৎ, প্রশ্নটি শুধু মানুষের প্রতি নয়; জিন ও মানবজাতি উভয়ের উদ্দেশেই করা হয়েছে। কারণ, উভয় জাতিই আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত ভোগ করে এবং তাঁর কাছে জবাবদিহিরও মুখোমুখি হবে।
ইসলামী শিক্ষায় নিয়ামত অস্বীকার বলতে শুধু মুখে অস্বীকার করাকে বোঝায় না। আল্লাহর দেওয়া সম্পদ, জ্ঞান, শক্তি ও সুযোগ তাঁর অবাধ্যতায় ব্যবহার করা কিংবা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করাও নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াতের সময় জিনদের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেছিল, ‘লা বিশাই'ইম মিন আ-লা-ইকা রাব্বানা নুকায্যিব, ফালাকাল হামদ’ অর্থাৎ, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আপনার কোনো নিয়ামতই আমরা অস্বীকার করি না; সব প্রশংসা আপনারই।’
আলেমদের মতে, এই আয়াতের পুনরাবৃত্তি মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতার চেতনা জাগিয়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি নিয়ামত, প্রতিটি নিদর্শন এবং প্রতিটি সুযোগের জন্য মানুষের উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করা।
আরও পড়ুন
- • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডিমবোঝাই ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫
- • বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানালেন মার্কিন দূতাবাস
- • নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক আগামীকাল
- • জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা, শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়
- • পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখেরও অধিক, মৃত্যু বেড়ে ৪৪
- • ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারের মৃত্যু
- • সিলেটে বাড়ছে নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
- • আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে-কখন, প্রতিপক্ষ কে?
- • চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ
- • পারমাণবিক অস্ত্রের সমান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি: দিমিত্রি মেদভেদেভ
- • যুদ্ধবিরতিকে সামরিক প্রস্তুতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান
- • সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর আনিছুর রহমান
- • স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানালেন জাহেদ উর রহমান
- • ধাপে ধাপে বাড়বে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন: প্রধানমন্ত্রী
- • ২৭তম বিসিএসে বঞ্চিত আরও ৭৭ জনকে নিয়োগ দিল সরকার
- • খামেনির জানাযায় অংশ নিয়ে দেশে ফিরেছেন স্পিকার
