২৭ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ০২:৫৩

শিরোনাম
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবির মাঝে বাবার ছবি দেখে থমকে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী আগস্টের মধ্যে পে-স্কেল না হলে হরতাল কর্মসূচির হুঁশিয়ারি শুধু চাকরির পেছনে নয়, কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর চা শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর থার্ড টার্মিনাল নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান বেবিচকের বর্তমানে দেশে ৪ কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার: মির্জা ফখরুল সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের
শিরোনাম
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে প্রথম অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাবেক সেনাপ্রধানদের ছবির মাঝে বাবার ছবি দেখে থমকে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী আগস্টের মধ্যে পে-স্কেল না হলে হরতাল কর্মসূচির হুঁশিয়ারি শুধু চাকরির পেছনে নয়, কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর চা শিল্পের বিকাশে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর থার্ড টার্মিনাল নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান বেবিচকের বর্তমানে দেশে ৪ কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার: মির্জা ফখরুল সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের

বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতাকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জোর আলোচনা

বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতাকে ঘিরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জোর আলোচনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪২

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলীয় সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান এবং ড. আবদুল মঈন খান। দলীয় ফোরামে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংবিধান অনুযায়ী তারা সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হওয়ায় তাকে রাষ্ট্রপতি পদের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। ১৯৭৯ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ড. আবদুল মঈন খানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি অতীতে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক মহলে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত হলেও বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্পিকারের পদ শূন্য হবে। সে ক্ষেত্রে ওই পদে ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত করা হবে।

অন্যদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, সে বিষয়ে দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে বাংলাদেশের নাগরিক, ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

আরও পড়ুন