২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০:০৪

শিরোনাম
কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ৩০ জুলাই দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা গুম-ক্রসফায়ার ও অপতথ্যে শূন্য সহনশীলতা, সরকারের কঠোর বার্তা এমআরটি-৫ প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমাল সরকার, অনুমোদনের অপেক্ষায় ডিপিপি ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার বাংলাদেশের যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে দেশে ফিরছেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: শোক, স্মৃতি আর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা ৩১ দফা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গ্যাসের স্বল্পচাপে ভোগান্তিতে তিতাসের গ্রাহকরা
শিরোনাম
কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ৩০ জুলাই দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা গুম-ক্রসফায়ার ও অপতথ্যে শূন্য সহনশীলতা, সরকারের কঠোর বার্তা এমআরটি-৫ প্রকল্পে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমাল সরকার, অনুমোদনের অপেক্ষায় ডিপিপি ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার বাংলাদেশের যুদ্ধের বিভীষিকা পেরিয়ে দেশে ফিরছেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: শোক, স্মৃতি আর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা ৩১ দফা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গ্যাসের স্বল্পচাপে ভোগান্তিতে তিতাসের গ্রাহকরা

রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও সমাধান মিয়ানমারেই: প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও সমাধান মিয়ানমারেই: প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২০:৫০

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, গণহত্যা শুরু হওয়ার আট বছর পরও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে এবং সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অভাব লক্ষণীয়। তিনি বলেন, তহবিলের ঘাটতিও উদ্বেগজনক; তহবিল ঘাটতি সমাধানের একমাত্র শান্তিপূর্ণ বিকল্প হলো রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন, যা আন্তর্জাতিক সংরক্ষণের তুলনায় কম খরচে সম্ভব। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা সব সময়ই নিজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং বিশেষত সাম্প্রতিকভাবে সংঘাত এড়াতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়াদের তাৎক্ষণিক প্রত্যাবাসন সুবিধা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই সংকটের শিকার; দেশের উপর বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বোঝা পড়ে আছে। রাখাইন হয়ে বাংলাদেশে মাদকের প্রবাহসহ অপরাধমূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে যা সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দেশের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ—বেকারত্ব ও দারিদ্র্য—বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না, সবাই মিলে চূড়ান্ত সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে—এমন আহ্বানও করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ড. ইউনূস সাত দফার সুপারিশও উপস্থাপন করেন। তিনি প্রথমত রাখাইনের যুক্তিসংগত স্থিতিশীলতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তব রোডম্যাপ তৈরি করার আহ্বান জানান; দ্বিতীয়ত মিয়ানমার ও আরাকান সেনাবাহিনীর ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ ও টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করার পরামর্শ দেন, বিশেষত যারা সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন তাদের দিয়ে শুরু করার আবেদন জানিয়ে; তৃতীয়ত রাখাইনকে স্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন একত্রিত করতে এবং স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি স্থাপন করার প্রস্তাব দেন; চতুর্থত রাখাইন সমাজ ও শাসনব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের টেকসই একীকরণের জন্য আস্থা তৈরির ব্যবস্থাগুলোকে সমর্থন করার কথা বলেন; পঞ্চমত যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার সম্পূর্ণ অর্থায়নের জন্য দাতাদের অবদান একত্রিত করার আহ্বান জানান; ষষ্ঠত জবাবদিহিতা ও পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার অনুসরণ করার ওপর জোর দেন; এবং সপ্তমত মাদক-অর্থনীতি ভেঙে ফেলা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রয়োজন বলে বলছেন।

সম্মেলনে ড. ইউনূস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার জানান ও আশা প্রকাশ করেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মিলেই রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাশীল প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করবে।

আরও পড়ুন