০৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০৩:৩৯

শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৬৫ বিলিয়ন ডলার ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৬৫ বিলিয়ন ডলার ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার

তরুণদের ফুসফুস এখন ক্যান্সারের কবলে

তরুণদের ফুসফুস এখন ক্যান্সারের কবলে

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:১০

সূর্যগ্রহণে চাঁদ যেমন সূর্যকে ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলে সমগ্র পৃথিবীকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে দেয়, ঠিক তেমনই তরুণদের ফুসফুস এখন ক্যান্সারের ভয়াবহ জীবাণুর সংক্রমণে ঢেকে আছে৷ সূর্যের গ্রহণ তো কিছু সময় পরে শেষ হয়ে যাবে, আবারো আলোকিত হবে বিশ্ব। তবে তরুণদের ফুসফুস যেন চিরতরে ক্যান্সারের অন্ধকারে আবৃত। ক্যান্সারের ভয়াবহ জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মরণব্যাধি তৈরি করে।

ফুসফুস যা কিনা মানবদেহের শ্বাস-প্রশ্বাসের এবং বেঁচে থাকার মূল কেন্দ্র, সেখানে ফুসফুসই ক্যান্সারের জীবাণুর দখলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে তরুণদের ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিনিয়ত মৃত্যুহারের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসছে। একসময় যেখানে ক্যান্সারকে মনে করা হতো বয়সের রোগ, সেখানে এখন বিশের কোঠার তরুণও আক্রান্ত হচ্ছে। মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে সিগারেট, ভেপ, পরিবেশ দূষণ, ধুলা-বালি, ইটভাটা কিংবা যানবাহনের কালো ধোঁয়া। এই সব মিলেই তরুণ প্রজন্মের ফুসফুসকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে ভয়ংকর এক ব্যাধি।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। শুধু তাই নয়, শহুরে এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের মধ্যে এই হার দ্বিগুণ। ঢাকার ব্যস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে একবার চারপাশে তাকালেই বোঝা যায় প্রতিটি নিঃশ্বাসে কতোটা বিষ গিলে ফেলছে মানুষ। ধোঁয়ায় ঢাকা বাতাস আর সিগারেটের ধোঁয়া মিলেমিশে তরুণদের ফুসফুসকে প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করছে। যেখানে কথা ছিলো তরুণদের বিশ্ব জয় করার সেখানে তরুণরা ক্যান্সারের কবলে পরে চিরতরে বিশ্ব থেকে বিদায় নিচ্ছে।

ঝলমলে জীবনযাপনের জায়গায় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছে তরুণরা। তরুণদের ফুসফুস ক্যান্সারের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের সেবন। তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা ভয়ংকরভাবে বেড়েছে। নিজেকে অন্যরকম দেখানোর প্রতিযোগিতায় তারা নিজেরাই মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ই-সিগারেট ও ভেপের সেবন৷ আধুনিক ধূমপানের বিকল্প হিসেবে ভেপকে অনেকেই নির্দোষ ভাবলেও, এর মধ্যে থাকা নিকোটিন ও রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসের জন্য সমান ক্ষতিকর। দূষিত পরিবেশ ফুসফুসে ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ৷ শিল্পাঞ্চল, ইটভাটা, কারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া এগুলো প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। একসময়কার খোলা আকাশের নির্মল বাতাস এখন দূষণের আবরণে ঢাকা। প্যাসিভ স্মোকিং সমাজের অবহেলিত কিন্তু ক্ষতিকর একটি দিক। যারা নিজেরা ধূমপান করেন না, তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন অন্যের ধোঁয়া থেকে। অসচেতনতা ও জীবনধারার কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, দূষিত খাবার ও দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ তবে সমস্যা গুরুতর হলেও সমাধানের পথ এখনও খোলা রয়েছে। কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে তরুণদের ধূমপান থেকে দূরে রাখার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। সিগারেট ও ভেপের সহজলভ্যতা কমাতে সরকারকে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারখানা, যানবাহন ও ইটভাটার জন্য পরিবেশবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার জরুরি।স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি৷ তরুণদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিকল্প বিনোদন ও জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে৷ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে ক্ষতিকর অভ্যাস অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সরকারের উচিত তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কেননা আজকের তরুণেরা আগামীর ভবিষ্যৎ আর এই তরুণ প্রজন্মই যদি প্রতিনিয়ত ফুসফুসে ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকর রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মারা যায় তবে আগামীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সিগারেট ও ভেপের এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা কমানো এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন অতিশীঘ্রই প্রয়োগ করা।

আজকের তরুণরা আগামী দিনের রাষ্ট্র ও সমাজের চালিকাশক্তি। তাদের ফুসফুসে যদি ক্যান্সারের ছায়া নেমে আসে, তবে দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে ঢেকে যাবে। তাই এখনই আমাদের কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই বাক্যটি যেন কেবল সিগারেটের প্যাকেটেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আমাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও নীতিতে প্রতিফলিত হোক। ফুসফুসে জমে থাকা এই অন্ধকারকে থামাতে হবে এখনই। নইলে একদিন হয়তো আমরা শ্বাস নেওয়ার সহজ আনন্দটুকুও হারিয়ে ফেলব। জীবন মানে তো মুক্ত নিঃশ্বাস সেটাই যদি ধোঁয়া ও ক্যান্সারে বন্দি হয়, তবে আমাদের প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আর কীভাবে আলোর পথে এগোবে।

নুসরাত জাহান (স্মরনীকা)
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
ইমেইলঃ [email protected]

আরও পড়ুন