০৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার, ০২:৩৪

শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৬৫ বিলিয়ন ডলার ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৬৫ বিলিয়ন ডলার ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও বৃক্ষরোপণে ডিএসসিসির উচ্চপর্যায়ের কমিটি লোডশেডিং ও ভূতুড়ে বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সভা ৩৪ কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বহাল হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত লক্ষাধিক এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমাল বিইআরসি শাহজালালে বিমানের কার্গোহোলে মিলল ১৬০ স্বর্ণের বার

গবেষণা: দেরিতে চিকিৎসায় বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি

গবেষণা: দেরিতে চিকিৎসায় বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০১:২০

বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা শুরুতে দীর্ঘ বিলম্বের চিত্র উঠে এসেছে বায়োমেডিকেল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) এক গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, রোগের লক্ষণ প্রকাশের পর অর্ধেকের বেশি রোগীর চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসেরও বেশি সময় লাগছে। এর ফলে রোগ জটিল হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় ৩৫৫ জন স্তন ক্যানসার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ঢাকার জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রোগীদের নিয়ে। গবেষণার নেতৃত্ব দেন বিআরএফের বিজ্ঞানী ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর চূড়ান্ত চিকিৎসা শুরু হতে চার মাসের বেশি সময় লেগেছে। এছাড়া ৪১ শতাংশ রোগী তিন মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে দেরি করেছেন। অন্যদিকে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

প্রথমবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় প্রায় অর্ধেক রোগী ক্যানসারের দ্বিতীয় ধাপে এবং ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ রোগী তৃতীয় ধাপে ছিলেন। তৃতীয় ধাপের রোগীদের মধ্যেই চিকিৎসা বিলম্বের হার সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় চিকিৎসা বিলম্বের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ৭৯ শতাংশ নারী মনে করেছিলেন সমস্যাটি নিজে থেকেই সেরে যাবে, ৭৬ শতাংশ অবহেলার কারণে চিকিৎসা নেননি, ৬৬ শতাংশ অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করেছেন। এছাড়া অনেকেই সংকোচ, ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার ভয় কিংবা চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কার কারণে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাননি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা, পারিবারিক আয় ও বসবাসের স্থান চিকিৎসা বিলম্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নিরক্ষর, স্বল্প আয়ের এবং গ্রামাঞ্চলের নারীদের মধ্যে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে রংপুরে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি উন্নয়নে গবেষকরা গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাসেবা চালু, রেফারেল ব্যবস্থা জোরদার এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন