০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ১৮:১৫

শিরোনাম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী
শিরোনাম
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই ইউএন-কপস সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরিদপুরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা সরকারের: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি স্পিকা‌র হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সব হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নতুন নির্দেশনা অন্যায়কারীর বিচার হবে, অবিচার নয়: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য: অর্থমন্ত্রী

শাওয়াল মাসের রোজা নিয়ে ইসলাম কি বলে?

শাওয়াল মাসের রোজা নিয়ে ইসলাম কি বলে?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৬:১৮

পবিত্র রমজান বিদায়ের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা মুমিনের জন্য নেকির পাল্লা ভারী করার এক অনন্য সুযোগ। এই রোজাগুলোর ফজিলত, সময় এবং নিয়ম সম্পর্কিত একটি দালিলিক প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

শাওয়ালের রোজা শুরু ও শেষের সময়

ঈদুল ফিতরের দিন (১লা শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদের দিনটি অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে এই রোজা শুরু করা যায়। শাওয়াল মাসের ২ তারিখ (২২শে মার্চ) থেকে এই রোজা রাখা শুরু করা উত্তম। শাওয়াল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত এই রোজা রাখার সুযোগ থাকে। যেহেতু হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ (১৯ এপ্রিল) (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পর্যন্ত এই আমলটি সম্পন্ন করা যাবে।

৬টির কম রোজা রাখলে কি ক্ষতি আছে?

শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব বা অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নফল আমল। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই এই রোজা পালনের ক্ষেত্রে বিধান হলো-
কেউ যদি ৬টির একটিও না রাখে বা কোনো কারণে ৬টির কম রাখে, তবে তার কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না। তবে হাদিসে বর্ণিত ‘সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব’ পেতে হলে অবশ্যই ৬টি রোজা পূর্ণ করতে হবে। 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘কেউ কোনো নেক আমল করলে, তাকে তার দশ গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।’ (সুরা আনআম: ১৬০) সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিন ও শাওয়ালের ৬ দিন মোট ৩৬ দিন। প্রতিটি আমলের সওয়াব ১০ গুণ হিসেবে তা ৩৬০ দিনে পরিণত হয়, যা প্রায় এক বছরের সমান। তাই ৬টির কম রাখলে এই বিশেষ ফজিলতটি পূর্ণ হবে না।

রোজা রাখার পদ্ধতি: ধারাবাহিক না কি বিরতি দিয়ে?

শাওয়ালের ৬টি রোজা একাধারে টানা রাখা জরুরি নয়। বরং পুরো শাওয়াল মাসের মধ্যে নিজের সুবিধামতো ভেঙে ভেঙে বা বিরতি দিয়ে ৬টি রোজা পূর্ণ করলেই হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে।

প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সুন্নাহ রোজার সাথে মিলিয়ে অথবা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের (আইয়ামে বিজ) রোজার সাথে মিলিয়ে সহজেই এই ৬টি রোজা সম্পন্ন করা যায়।

আগে কাজা না আগে শাওয়াল?

যাদের রমজানের রোজা কোনো কারণে কাজা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেমের মত হলো- আগে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নেবেন, তারপর শাওয়ালের রোজা রাখবেন। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল (অর্থাৎ পূর্ণ করল), অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল...’। তবে যদি শাওয়াল মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে শাওয়ালের নফল রোজা আগে রেখে পরে কাজা আদায় করার অবকাশ রয়েছে বলে অনেক ফকিহ মত দিয়েছেন।

শাওয়ালের রোজা রমজানের ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি রোজার ঘাটতি পূরণ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক। ৬টি রোজা পূর্ণ করাই উত্তম, তবে কম রাখলে কোনো গুনাহ নেই; শুধু বিশেষ ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী শাওয়াল মাসের মধ্যেই এই আমল সম্পন্ন করার চেষ্টা করা উচিত।

আরও পড়ুন