০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২২:৪৫

শিরোনাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২
শিরোনাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন "ইত্যাদি" খ্যাত উপস্থাপক হানিফ সংকেত

স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন "ইত্যাদি" খ্যাত উপস্থাপক হানিফ সংকেত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০১:২৩

দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক সচেতনতার এক অবিসংবাদিত নাম হানিফ সংকেত। পুরো নাম এ কে এম হানিফ।
 
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি কোটি মানুষের মননকে অতি যত্নে আগলে রেখেছেন নিজস্ব মেধা আর দেশপ্রেম দিয়ে। এই ‘কথার জাদুকর’ এবার ভূষিত হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’-এ।

​বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করেন। সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

​স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হানিফ সংকেত এই অর্জনকে তাঁর কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি বলেন-"এই অর্জন আমার একার নয়-যাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমার এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে এই অর্জন তাদের সবার। আজকের এই আনন্দের দিনে আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই পুরস্কার আমি আমার লক্ষ-কোটি দর্শকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি। আমি বিশ্বাস করি, সুস্থ সংস্কৃতিই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে। আমৃত্যু আমি সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।" 

মুক্তবুদ্ধির বিকাশ এবং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় তার অবদান অনস্বীকার্য। 

ইত্যাদি : ​১৯৮৯ সালের মার্চ মাসে বিটিভিতে যাত্রা শুরু করেছিল ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। গত ৩৬ বছরে অনেক অনুষ্ঠান এসেছে এবং হারিয়ে গেছে, কিন্তু হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে। স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে অনুষ্ঠানকে বের করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার যে সাহসী সিদ্ধান্ত তিনি নব্বইয়ের দশকে নিয়েছিলেন, সেটিই আজ এই অনুষ্ঠানের প্রধান ‘সিগনেচার’।

​হানিফ সংকেত শুধু একজন উপস্থাপক নন, তিনি একাধারে পরিচালক, লেখক, গায়ক এবং সুরকার। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে তিনি কেবল হাসির খোরাক জোগাননি, বরং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা অসংগতি, ভণ্ডামি আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। ‘প্রচারবিমুখ ভালো মানুষ’ খুঁজে বের করে তাঁদের আলোকবর্তিকা হিসেবে জাতির সামনে তুলে ধরা তাঁর অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় সার্থকতা। তার জীবনের দিকে তাকালে লক্ষ্য করা যায় বহুমাত্রিক প্রতিভা ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের বিষয়টি।
 
​হানিফ সংকেতের মিডিয়া জগতে পদার্পণ কিংবদন্তি উপস্থাপক ফজলে লোহানীর হাত ধরে, তার ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। লোহানীকে নিজের ‘বন্ধু ও অভিভাবক’ মানা হানিফ সংকেত সময়ের সাথে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

​অভিনয়: হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘কুসুম’ ছাড়াও চলচ্চিত্রে খলনায়ক হিসেবে ‘আগমন’ (১৯৮৮) এবং ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’ ও ‘ঢাকা-৮৬’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি।

​নির্মাণ: ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘কিংকর্তব্য’-এর মতো অসংখ্য সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ নাটক পরিচালনা করেছেন তিনি।

​সাহিত্য: রম্য রচনায় তাঁর দখল ঈর্ষণীয়। ‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘অকাণ্ড কাণ্ড’-সহ তাঁর লেখা বহু বই পাঠকমহলে সমাদৃত।

​পুরস্কার ও স্বীকৃতি

​হানিফ সংকেত এর আগে ২০১০ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি জাতীয় পরিবেশ পদক এবং রেকর্ডসংখ্যক বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তিকে তাঁর চার দশকের আপসহীন সাংস্কৃতিক সংগ্রামের এক পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনরা।

​​হানিফ সংকেত প্রমাণ করেছেন, অশ্লীলতা বা সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটেও সুস্থ ও শালীন বিনোদন দিয়ে একটি জাতির সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড মজবুত করা সম্ভব। রাজনীতি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেবল সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলা এই ব্যক্তিত্বের আমৃত্যু পথচলা হোক সুস্থ সংস্কৃতির হাত ধরে- এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। 

আরও পড়ুন