০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬:৩৩

শিরোনাম
তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জুলাই থেকে চালু হচ্ছে হেলথ কার্ড, মিলবে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান
শিরোনাম
তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জুলাই থেকে চালু হচ্ছে হেলথ কার্ড, মিলবে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান

পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবন

পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের জীবন

কলাম লেখক

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৫১

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল কেবল পাহাড়, বন আর ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্যের নাম নয় এটি বহু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাণের ঠিকানা। এই পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনযাপন সহজ-সরল হলেও সংগ্রামে ভরা। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, তারা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে নয়; বরং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই জীবনকে এগিয়ে নেয়। তাদের প্রতিদিনের জীবন প্রকৃতির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। জুম চাষ, বনজ সম্পদ সংগ্রহ কিংবা পাহাড়ি ঝর্ণার পানিতে গৃহস্থালির কাজ সবকিছুতেই প্রকৃতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

শৈশবে মা–বাবার সঙ্গে পাহাড়ি পথ বেয়ে জুমে যাওয়া, বীজ বোনা ও ফসল তোলার স্মৃতি পাহাড়ি শিশুদের নিত্যদিনের অংশ। পরিশ্রমে ক্লান্তি থাকলেও হতাশা সেখানে খুব কমই দেখা যায়, কারণ সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার সংস্কৃতি এই সমাজের গভীরে প্রোথিত। পার্বত্য আদিবাসী সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। কারও ঘরে উৎসব হলে পুরো পাড়া সেখানে উপস্থিত থাকে। বৈসাবি কিংবা বৈসুকের মতো উৎসবে বয়স ও শ্রেণিভেদ ভুলে গ্রামের প্রতিটি মানুষ আনন্দে মেতে ওঠে। এসব উৎসব কেবল আনন্দই দেয় না, বরং মানুষকে তাদের শেকড় ও পরিচয়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে।
‎তবে বাস্তবতা সবসময় এত সুন্দর নয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব খুব কাছ থেকে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল অনেক দূরে, শিক্ষক সংকট প্রকট। সন্তানদের কষ্টের কথা ভেবে অনেক মা–বাবাই তাদের পড়াশোনায় পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী কেবল সুযোগের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। যারা শহরে এসে পড়াশোনা করে, তাদের জীবনধারা ও সংগ্রামের গল্প মূলধারার সমাজ খুব কমই জানে বা বোঝে।

এর চেয়েও বেদনাদায়ক হলো উন্নয়নের নামে প্রায়ই আদিবাসীদের ভূমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ে। নিজেদের চারপাশেই দেখা যায় কীভাবে বন উজাড় হচ্ছে, পাহাড় কাটা পড়ছে; অথচ সেই তথাকথিত উন্নয়নের সুফল আদিবাসীদের কাছে পৌঁছায় না। এতে শুধু জীবিকাই নয়, হুমকির মুখে পড়ে তাদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও অস্তিত্ব।


‎আদিবাসীদের জন্য শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। আদিবাসীদের উন্নয়ন মানে তাদের সংস্কৃতি মুছে ফেলা নয়; বরং তাদের ভাষা, ঐতিহ্য ও অধিকারকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে যাওয়া। অধিকার ও সম্মান পেলে তারাই আগামী বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো দেশের একটি জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য ও অধিকারবঞ্চিত করে রেখে সেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আদিবাসীদের উন্নয়নে দেশের সকল নাগরিকের সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।


লেখক,‎
লিমা ত্রিপুরা
‎লোকপ্রশাসন বিভাগ
‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
‎ইমেইল:

আরও পড়ুন