১৫ জুন ২০২৬, সোমবার, ১৮:১৮

শিরোনাম
১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহণে জিপিএস বাধ্যতামূলক ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম দীর্ঘ বিরতির পর চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, আজই জানানো হবে সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ
শিরোনাম
১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহণে জিপিএস বাধ্যতামূলক ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম দীর্ঘ বিরতির পর চালু হচ্ছে ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, আজই জানানো হবে সিদ্ধান্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

হাম নাকি চিকেনপক্স, চেনার সহজ উপায়

হাম নাকি চিকেনপক্স, চেনার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১৬:১৬

বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে শিশুদের মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। ভাইরাস ও জীবাণুঘটিত এসব রোগের শুরুর দিকের উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম থাকে—যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি এবং ত্বকে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি। ফলে অনেক সময়ই অভিভাবকেরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান যে শিশুটি আসলে হামে আক্রান্ত নাকি চিকেন পক্সে। তবে একটু সতর্কতার সাথে খেয়াল করলে এই দুই রোগের পার্থক্য এবং অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি সহজে চেনা সম্ভব।

ক্লিনিক্যাল তথ্যের আলোকে রোগগুলোর ভিন্নতা এবং চেনার উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

১. হাম (Measles)

হাম ‘রুবেওলা’ ভাইরাসের কারণে হওয়া একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা প্রথমে শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি এতটাই ছোঁয়াচে যে, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ১০ জন অসুরক্ষিত মানুষের মধ্যে ৯ জনই এতে সংক্রমিত হতে পারেন।

লক্ষণ ও ফুসকুড়ির ধরন: সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ৭ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। শুরুতে তীব্র শুষ্ক কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চ জ্বর হতে পারে।

চেনার উপায়: জ্বর ও কাশির ২-৩ দিন পর প্রথম লক্ষণ হিসেবে মুখের ভেতর গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে দাগ দেখা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘কোপলিক স্পট’ বলা হয়। এর ৩-৫ দিন পর ত্বকে লালচে বা বাদামি রঙের ম্যাকুলোপাপুলার (ত্বক থেকে সামান্য উঁচু) ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই ফুসকুড়ি প্রথমে মুখ, ঘাড় ও কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে নিচের দিকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ৫-৬ দিন পর ফুসকুড়িগুলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে।

২. জলবসন্ত বা চিকেনপক্স (Chickenpox)

এটি ‘ভেরিসেলা-জোস্টার’ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট আরেকটি অতি সংক্রামক রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে বা রোগীর ফুসকুড়ির তরল সরাসরি স্পর্শ করলে ছড়ায়।

লক্ষণ ও ফুসকুড়ির ধরন: ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, মাথাব্যথা ও শীত শীত ভাবের ১-২ দিনের মধ্যেই সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

চেনার উপায়: হামের ফুসকুড়ির মতো এগুলো কেবল লালচে দাগ নয়, বরং খুব দ্রুত পানি বা পুঁজে ভর্তি টসটসে ফোঁস্কায় পরিণত হয় এবং এতে মারাত্মক চুলকানি থাকে। এই দানাগুলো প্রথমে পেট ও পিঠে দেখা দেয় এবং পরে হাত, পা ও সারা শরীরে ছড়ায়। চিকেন পক্সের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, রোগীর শরীরে একই সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ফুসকুড়ি দেখা যেতে পারে—অর্থাৎ কিছু ফোঁস্কা নতুন উঠছে, কিছু পানি ভর্তি হয়ে আছে, আবার কিছু শুকিয়ে খোসা বা পাঁচড়ার মতো রূপ নিয়েছে।

জটিলতা ও চিকিৎসা 

হাম ও চিকেনপক্স—উভয় রোগই সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে সঠিক যত্ন না নিলে হামের কারণে কান পাকা, তীব্র ডায়রিয়া, অন্ধত্ব, নিউমোনিয়া এবং এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) হতে পারে, যা প্রতি ১০০০ জনে ১ থেকে ৩ জন শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

করণীয় ও চিকিৎসা

• উভয় রোগের জন্যই নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

• জ্বর ও ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া যাবে। তবে ভাইরাল অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ভুলেও অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না, এতে ‘রে’স সিনড্রোম’ নামক মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি থাকে।

• হামের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দুই দিন ভিটামিন এ সম্পূরক খাওয়ানো চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

• ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত হামের রোগী সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকেন। তাই রোগীকে আলাদা ঘরে রাখা জরুরি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

হামের কারণে যদি নিম্নলিখিত সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসার যত্ন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে:

• শ্বাস প্রশ্বাস

• প্রচণ্ড জ্বর যা কমছে না

• তীব্র মাথাব্যথা বা বিভ্রান্তি

• হৃদরোগের আক্রমণ

প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়

হাম এবং চিকেনপক্স—উভয় রোগই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। এমএমআর টিকার দুটি ডোজ হামের বিরুদ্ধে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। এছাড়া হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিলে কিংবা ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে ৬ দিনের মধ্যে ইমিউনোগ্লোবুলিন দিলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখাই এই রোগগুলো ছড়ানো বন্ধ করার একমাত্র উপায়।

প্রতিফলন/টিএস 

আরও পড়ুন