সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:১৫
কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওড়গুলো।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সংশয় দেখা দিয়েছে মাঠের ফসল নিয়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনতে বলা হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরগুলোকে। এবার সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ধান ফলানো হয়েছে- তার অধিকাংশই হাওড়ে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে হাওড়াঞ্চলের হাজার কোটি টাকার আধাপাকা বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মূলত ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির প্রভাবেই এই পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
সিলেটের মুরাদপুর হাওড়ের কৃষক শাহাব উদ্দিন জানান, পানি বাড়তে থাকায় কাঁচা পাকা ধান তুলতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু সেই কাঁচা ধান শুকানো ও সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চারা গজিয়ে যাচ্ছে। ধার করা টাকায় ধান করেছি, কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, আর কয়েকটা দিন সময় পেলে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু আগাম বন্যা সব স্বপ্ন ম্লান করে দিচ্ছে। তবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই অকাল বন্যায় জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
সিলেটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকারিয়া মোস্তফা জানান, আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও আমরা পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারিনি। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কেনার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ পরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, সিলেটে ৮৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়ের ৮৫ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে।
তিনি জানান, দ্রুত ধান কেনার জন্য খাদ্য বিভাগে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
- • আদালতে পেপারওয়েট ছুড়ে নারী আইনজীবীকে আহত করলেন বিচারক
- • মেসিকে নিয়ে অপপ্রচার, এবার আদালতে আফা
- • আদালতেই বিচারকের ছোড়া পেপারওয়েটে রক্তাক্ত নারী আইনজীবী
- • মেসির দলে যোগ দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ন তারকা কাসেমিরো
- • হরমুজে মার্কিন হামলার দাবি ইরানের
- • সরকারের আশ্বাস না পেলে অনশন চলবেই: ওয়াংচুক
- • না ফেরার দেশে সিনিয়র সাংবাদিক রাসেল
- • রিহ্যাবের ৬ দফা, আবাসনে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- • চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলা চালাল ইরান
- • পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৫ সেনা নিহত
- • সমঝোতা চুক্তি 'স্থগিত' ঘোষণা করল ইরান
- • হঠাৎ ভারতের মহাকাশ সংস্থায় বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ
