১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে পাচার ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ, ২০২৬, ২০:০৪
বাণিজ্যের আড়ালে গত ১০ বছরে (২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত) বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি (৬৮.৩০ বিলিয়ন) ডলার পাচার হয়েছে।
বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। প্রতিবছর গড়ে ৬৮৩ কোটি (৬.৮৩ বিলিয়ন) ডলার পাচার হয়েছে; টাকার অঙ্কে যা ৮৩ হজার ৮৩৮ কোটি টাকা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) বাণিজ্যের আড়ালে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের এই চিত্র উঠে আসে।
গত ২৬ মার্চ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে অর্থ পাচার হওয়া ১০টি দেশের একটি হলো বাংলাদেশ।
মূলত আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে অর্থ পাচারের কৌশলকে এখানে তুলে আনা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি (২৩৪ বিলিয়ন) ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। ওই সময়ের বাজারদরে (প্রতি ডলারের দাম ১২০ টাকা) এর পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই হিসাবে প্রতিবছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আর্থিক খাতের রাঘববোয়াল (ক্রীড়নক), আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগীরা এই পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন।
জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬৮৩ কোটি ডলার পাচার হয়, যা মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান। যার বড় অংশই বাণিজ্যের মূল্য কারসাজির (মিথ্যা ঘোষণা) মাধ্যমে হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট পাচার হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি (৩২৮ বিলিয়ন) ডলার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় গেছে। বাংলাদেশ বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকি বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের অর্থ পাচার উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বড় বাধা। এতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ দুর্বল হয়, কর রাজস্ব কমে যায় এবং জনসেবা ও অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুচিত হয়।
জিএফআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, বড় অর্থনীতির দেশগুলোর বাণিজ্য বেশি হওয়ায় সেখানে অবৈধ অর্থের প্রবাহ বা পাচার বেশি দেখা যায়। যেমন এক দশকে চীনে ৬ দশমিক ৯৬ ট্রিলিয়ন ডলার, থাইল্যান্ডে ১ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ও ভারতে ১ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। মোট বাণিজ্যের বার্ষিক হিসাবে চীনের প্রায় ২৫ শতাংশ ও ভারতের প্রায় ২২ শতাংশ এভাবে অর্থ পাচার হয়।
পাচার ঠেকাতে শুল্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার, আঞ্চলিক চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে স্বচ্ছতা বাড়ানো ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের সুপারিশ করেছে জিএফআই।
৭৫% পাচার হয় বাণিজ্যের আড়ালে
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাণিজ্যর মাধ্যমে হয়। আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়। গত বছরের ২২ জুলাই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত গবেষণাপত্র এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য–উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাবটি করা হয়।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, ২০১৫ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনের পর মোট ৯৫টি টাকা পাচারের ঘটনা নিয়ে কাজ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর সব কটিই করা হয়েছে বাণিজ্যের মাধ্যমে, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০১ কোটি টাকা।
বিআইবিএমের তিন শিক্ষক, বেসরকারি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক কর্মকর্তা মিলে ৩৭টি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশ্ন–উত্তরের তথ্য দিয়ে গবেষণাপত্রটি তৈরি করা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের শিক্ষক আহসান হাবিব।
আহসান হাবিব বলেন, অর্থ পাচারে অপরাধীরা বাণিজ্য চ্যানেলটি ব্যবহার করে, তার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাণিজ্যর মাধ্যমে বড় পরিমাণের অর্থ নেওয়া যায়। অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হয়। ফলে এ মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানোর আগ্রহ বেশি থাকে।
তিনি বলেছিলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের তথ্য–উপাত্তও এ গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৪ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যের আড়ালে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এই অর্থ পাচার মূলত বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি পণ্য আমদানিতে হয়।
ওই গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, দেশে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাকাঠামোতে দুর্বলতা আছে। জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ ব্যাংক জানায়, নিষেধাজ্ঞা তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাইয়ের সক্ষমতা রয়েছে। ৯৫ শতাংশ ব্যাংকের রয়েছে সনাতনী তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ১০০ শতাংশ ব্যাংকের লেনদেনের নিজস্ব তথ্যভান্ডার রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি মূল্য যাচাইয়ের তথ্যভান্ডারে সুবিধা নিতে পারে ৫০ শতাংশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন
- • ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে ধর্ষক নিহত
- • ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে দুই বাংলাদেশি আহত
- • ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল
- • চেলসি কিংবদন্তি ববি ট্যাম্বলিংয় আর নেই
- • বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
- • প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত
- • পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • নতুন গানে পরীমণি
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • বুধবার বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করবে বিইআরসি
- • তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি
