কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডোর আঘাত, আতঙ্কে পর্যটকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদিক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩:১০
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ এক প্রলয়ঙ্করী মিনি টর্নেডো আঘাত হেনেছে। সাগরের বুক থেকে উঠে আসা এই আকস্মিক টর্নেডোর কারণে সৈকতে বেড়াতে আসা শত শত পর্যটকের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তীব্র বাতাসের তোড়ে সৈকতের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অর্ধশতাধিক চেয়ার ও ছাতা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানান, দুপুরের পর আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা ছিল। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে সাগরের পানির ওপর আচমকা ঘূর্ণিবায়ুর সৃষ্টি হয় এবং সেটি ধীরে ধীরে বিশাল জলকুণ্ডলীর মতো বালুচরের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘূর্ণিটি সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর অংশে সরাসরি আঘাত হানে।
টর্নেডোটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল। সাগরের লোনা জল আর বালু ওড়াতে ওড়াতে এটি যখন সৈকতে আছড়ে পড়ে, তখন উপস্থিত পর্যটকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পর্যটকেরা চারদিকে ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে এ আতঙ্কের মাঝেই দূর থেকে অনেক পর্যটককে মুঠোফোনে এই বিরল ও ভয়ংকর দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়।
হঠাৎ ধেয়ে আসা এই টর্নেডোর মূল ঝাপটা যায় সৈকতের কিটকট (বিশ্রাম নেওয়ার চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ীদের ওপর দিয়ে। বাতাসের প্রচণ্ড শক্তিতে মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায় এবং ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সারি সারি রাখা চেয়ার ও ছাতা।
কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগোতে থাকে এবং বেলা পৌনে ৩টার দিকে সুগন্ধা সৈকতে আঘাত হানে। এর তীব্রতায় সৈকতে থাকা আমাদের ব্যবসায়ীদের ৫২টি কাঠের চেয়ার এবং ৬১টি ছাতা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হলেও স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘূর্ণিঝড়টি ধেয়ে আসতে দেখেই বিচকর্মী ও লাইফগার্ডের সহায়তায় পর্যটকরা দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে সক্ষম হন। টর্নেডোটি আঘাত হেনে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্বল হয়ে মিলিয়ে যায়। বর্তমানে সৈকতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সাগরপারে দেখা ঘূর্ণি বাতাস আসলে একটা টর্নেডো। তবে দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো এটা। এগুলো সাধারণত খুবই ধ্বংসাত্মক হয় এবং দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদ জায়গায় আসতে হয়। এর কবলে পড়লে মৃত্যু প্রায় অবধারিত। হাতির শূরের মতো যা থাকে তা যাকে স্পর্শ করবে তাকে ১০০ ফুট বা আরও উপরে নিয়ে ফেলবে এবং সবকিছু দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে।
আরও পড়ুন
- • হামের প্রকোপে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ১ হাজারের বেশি
- • দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ১১৮ পুলিশ সদস্য; গ্রেপ্তার ৭০
- • ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের তাণ্ডবে এই পর্যন্ত প্রাণ ছাড়াল ৫ হাজার
- • এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সময়সূচির ভাইরাল বিজ্ঞপ্তি ভুয়া, সতর্ক করল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
- • ইরান যুদ্ধে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে লন্ডনের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- • কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ৩০ জুলাই দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা
- • এআই আধিপত্য ঠেকাতে ২৯ দেশের জোট, যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা শি জিনপিংয়ের
- • গুম-ক্রসফায়ার ও অপতথ্যে শূন্য সহনশীলতা, সরকারের কঠোর বার্তা
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- • চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলা চালাল ইরান
