১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ১৭:২৯
গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে এবং দেশের ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। শেয়ার বাজার এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে পুরো চাপ গিয়ে ব্যাংক খাতের উপরে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা কয়েকটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.৪৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯.৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ, যেটা টাকার পরিমাণে এসে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা এখন ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ২২ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। অন্যদিকে রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির বৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.২১ বিলিয়ন ডলারে, যা আগে ছিল ২২ শতাংশ।
অর্থ পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্বেতপত্র বলছে বাংলাদেশ থেকে গত ১৫ বছরে পাচার হয়ে গেছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অন্যদিকে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বলছে, ওভার এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বছরে আট বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে।
ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গত ১৫ বছরে ব্যবহার করা হয়েছে। যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নাই, তাদেরকে ঋণ দেয়া হয়েছে। পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে একটির পর একটি তুলে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদহার ও ডলারের দাম ঠিক করা হয়েছে। ডলারের উপর চাপ কমাতে দাম ধরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে বিদেশে চলে গেছে।
বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেট দেয়ার একটি সংস্কৃতি আছে এবং এই ঘাটতি পূরণ হয় দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা বিদেশী ব্যাংক থেকে ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে। ব্যাংক খাত যেখানে অলরেডি খেলাফি ঋণ বা মন্দ ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে, সেখানে এই ব্যাংকগুলো আর ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য কোন ঋণ দেয়ার অবস্থায় আছে কিনা, সেটা একটি বড় প্রশ্ন।
ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশে যেই ঋণের চুক্তি হয়েছিল তার পরবর্তী কিস্তিগুলো নতুন সরকারকে আর দেবে না। তারা নতুন করে চুক্তি করতে বলছে। সুতরাং এখন ঋণের দিকে আমাদের তাকাতে হবে চীন বা এরকম কোন দেশের দিকে। আমরা যখন কোন ভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নেই— এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফ এর বাইরে গিয়ে— তখন দেখা যায় সেখানে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি পরিশোধেরও একটা চাপ থাকে।
প্রতিফলন/টিএস
আরও পড়ুন
- • বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- • রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন- আসল রহস্য কি ?
- • কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়নের পদত্যাগ
- • মহেশখালীর কারিগরি ত্রুটিতে জাতীয় গ্রিডে প্রভাব, তীব্র গ্যাস সংকট রাজধানীতে
- • ঢাকায় পৌঁছেছেন আতিফ আসলাম, কাল রাজধানীতে কনসার্ট
- • তেহরান তেল রপ্তানি করতে না পারলে অন্যরাও পারবে না, হুঁশিয়ারি ইরানের
- • ওমরাহ ভিসায় বড় পরিবর্তন, এক বছরেই একাধিকবার সৌদি যাওয়ার সুযোগ
- • বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা, বেড়েছে সব ধরনের স্বর্ণের দাম
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু হলেও অন্তরে ছলনা: নাহিদ ইসলাম
- • ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় ট্রাফিক লাইট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- • চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলা চালাল ইরান
- • পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৫ সেনা নিহত
- • সন্ধ্যার মধ্যে ৭টি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
- • হঠাৎ ভারতের মহাকাশ সংস্থায় বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ
- • সমঝোতা চুক্তি 'স্থগিত' ঘোষণা করল ইরান
