পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে জীবনের আগে মৃত্যুর উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি পন্ডিতদের মতে, এর কারণ হলো- মানুষ একসময় অস্তিত্বহীন অবস্থায় ছিল। অর্থ্যাৎ মানব-আত্মায় রুহ ফুঁকে দেওয়ার আগে মানুষ ছিল প্রাণহীন বা মৃত। তারপর আল্লাহ তাআলা তাকে জীবন দান করেন।
কোরআনের বর্ণনায় মৃত্যুর বিবরণ কেমন?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫০
এছাড়া কোরআনে ‘মৃত্যু’ ও ‘মৃত’ উভয় শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে, যা মূলত দেহ থেকে আত্মার বিচ্ছিন্নতাকেই নির্দেশ করে। তবে কখনও এই শব্দগুলো আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আবার কখনও রূপক অর্থে যেমন- ঈমানকে জীবন এবং ঈমানহীনতাকে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত মৃত্যু প্রতিটি জীবের জন্য একবারই সংঘটিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে সফলকাম।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
কোরআনে মৃত্যুর অর্থের ধরন : পবিত্র কোরআনে মৃত্যুর বিষয়টি মূলত দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন-
১. প্রকৃত অর্থে বা শারীরিক মৃত্যু : যেখানে আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।আল্লাহ তাআলা আরও সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহ মৃত্যুর সময় আত্মাসমূহ গ্রহণ করেন এবং যারা মারা যায় না তাদের আত্মাও ঘুমের সময় গ্রহণ করেন। তারপর যাদের জন্য তিনি মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন, তাদের আত্মা তিনি আটকে রাখেন এবং অন্যদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৪২)
২. রূপক অর্থে মৃত্যু : ঈসা (আ.)-এর প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আল্লাহ বললেন: ‘হে ঈসা, আমি অবশ্যই তোমাকে গ্রহণ করব, তোমাকে আমার নিকট তুলে নেব এবং অবিশ্বাসীদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত: ৫৫) এ আয়াতে ‘গ্রহণ’ শব্দটি প্রকৃত মৃত্যুর অর্থে নয়; বরং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কুদরতের মাধ্যমে ঈসা (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় উঠিয়ে নেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
যা কোরআনের সামগ্রিক বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে রূপক অর্থে মৃত্যুর আরেকটি ধরন, যেখানে ঈমানহীনতা, গোমরাহি বা হৃদয়ের অচেতনতাকে মৃত্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল, তারপর আমি তাকে জীবন দান করেছি এবং তার জন্য এমন একটি আলো স্থাপন করেছি, যার মাধ্যমে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে, সে কি তার মতো, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত, কখনোই তা থেকে বের হতে পারে না? এভাবেই কাফেরদের কাছে তাদের কর্মকান্ডকে শোভিত করে দেখানো হয়েছে।’ (সুরা: আনআম, আয়াত: ১২২)
অতএব, পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ হলো আত্মার মৃত্যু বা ঈমানহীনতা। যার দেহ জীবিত কিন্তু আত্মা অন্ধকারাচ্ছন্ন, সে মূলত চলন্ত এক মৃতদেহ, আর যার অন্তরে ঈমানের আলো আছে, সে দৈহিক মৃত্যুর পরেও অবিনশ্বর সফলতার অধিকারী। সুতরাং, প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সাময়িক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরকালীন স্থায়ী জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অভিযোগ ধর্মেন্দ্র প্রধানের
- • র্যাগিং অভিযোগে জাবির ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- • জুলাই-আগস্ট শহীদদের স্মরণে ঢাবিতে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল
- • বাবার দাফন শেষে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা
- • স্কালোনির বিদায় জল্পনা, আলোচনায় ৪ কোচ
- • এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
- • দেশের প্রথম জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা
- • সরকার কোনো উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না: প্রধানমন্ত্রী
- • কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকায় সড়কের নামকরণের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক
- • হঠাৎ কাতার সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- • বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • ১০ হাজার পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার
- • আগামী ৫ দিন ভারী বর্ষণের আশঙ্কা: আবহাওয়া অধিদপ্তর
- • বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান
- • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব
- • কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
