চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকায় ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে চীন। চাকরির বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও রোবোটিকস–সংশ্লিষ্ট নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অনেক কলা, মানবিক ও ভাষাবিষয়ক ডিগ্রি বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চীনা সংবাদমাধ্যম ও শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু ঐতিহ্যবাহী বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও স্নাতক শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয়ে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেকেই মনে করছেন, কিছু কলা ও মানবিক বিষয়ের ডিগ্রি বর্তমানে ক্রমেই কম কার্যকর হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’সহ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিভিত্তিক ডিগ্রিগুলো চীনের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে চীনে ১০ হাজারের বেশি নতুন ডিগ্রি কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর বড় অংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে অনেক প্রচলিত কাজ এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। ডিজাইন তৈরি, ছবি সম্পাদনা, মডেল নির্মাণ কিংবা বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজেও এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সম্পর্কিত জ্ঞান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সে কারণেই উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে চীন।
শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশও শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ অনেক দেশ ইতোমধ্যে পাঠ্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় এআই–সংশ্লিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করাই এ ধরনের পরিবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন
- • মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
- • যে ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণ হতে পারে
- • চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকায় ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন
- • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজ শুরু আজ, আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
- • সীমান্তে পুশব্যাক নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
- • ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিতে চান ট্রাম্প
- • তিন কারণে এখনো স্বাভাবিক হয়নি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল
- • ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা নিয়ে অন্ধকারে তেল আবিব
- • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
